
ডেস্ক:: দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটকে পুঁজি করে রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল অসাধু চক্র। পাম্পগুলোতে ‘সরবরাহ নেই’ বলে সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, পাম্পের ঠিক বাইরেই খোলা বাজারে বোতলজাত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।
রাজবাড়ী ও আশেপাশের জেলাগুলোর পাম্পগুলোতে গত দুই দিন ধরে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে যারা মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে ফিরছেন, তারা পড়েছেন মহাবিপদে। পাম্পে তেল না পেয়ে নিরুপায় হয়ে মানুষ রাস্তার ধারের ছোট দোকানগুলো থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঢাকাগামী মোটরসাইকেল আরোহী হাসেম আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাম্পের লোকরা বলছে তেল নেই। কিন্তু পাম্পের পাশের দোকানেই বোতলে করে ২৫০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। এটা স্পষ্ট সিন্ডিকেট। পাম্প থেকে তেল সরিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান জানান, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে বারবার তেলের সংকটে পড়ছেন তিনি। খোলা বাজারে যে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তার মান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
পাম্প মালিকরা বরাবরের মতোই ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দিচ্ছেন। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান আজ এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, দেশে তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লুটছে।
সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকদের দাবি, অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হোক। পাম্প থেকে তেল সরিয়ে খোলা বাজারে বিক্রির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply