1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
এবার ব্রেক ফেল করায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল ভারতীয় যুদ্ধবিমান ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার পদে ড. মঈন খান! ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি কলাপাড়ায় বহুপক্ষীয় মৎস্যজীবী নেটওয়ার্কের বাৎসরিক সাধারণ সভা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে কোস্টগার্ডের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক পাইকগাছায় ৩৬ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্টসহ ৮ পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড শার্শার সীমান্তে ১,৫৯৩ পিস ইয়াবাসহ নারী আটক যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চায়, তাদেরকে কোথাও স্থান দেওয়া হবে না-ধর্মমন্ত্রী খুব দ্রুত ২ হাজার ৭শ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জোহরান মামদানির জয় মার্কিন প্রেসিডেন্টর-এর কি বার্তা বহন করে!

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩০৪ বার পড়া হয়েছে

শুরুটা একটু ভিন্ন আঙ্গিকে করা যাক অনেকটা প্রত্যাশিত ভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তার মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন জোহরান মামদানি। মার্কিন ইতিহাসে নবধারার সূচনা করেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট-এর চ্যালেঞ্জ-এর মুখে অনেকটা তিনি জয়যুক্ত হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুরু থেকে অনেকটা হুমকির সুরে কথা বলে তার বাণিজ্য শুল্ক নীতির মাধ্যমে অনেকটা চাপের মুখে রাখতে চেয়েছেন বিশ^কে যদিও বিশে^র বিভিন্ন চৌকষ নেতারা তার বিরোধীতা করেছেন। আমাদের উৎপাদিত পণ্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া শুল্কের ফলে আমাদের অনেক দেন দরবার করতে হয়েছে যা ছিল আমাদের জন্য দুঃচিন্তার কারণ। যদিও কিছু হলৌ কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে আমাদের পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ীরা। কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সেটি এখন ভাবার বিষয়।

এশিয়া সফরের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে বার্তা দিতে চেয়েছেন সেটি আমাদের জন্য উৎকন্ঠার কারণ হিসাবে বলা যেতে পারে আমাদের প্রতিযোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র প্রতিযোগিতার বন্ধে টিকে থাকতে হবে এটি এখন ভাবনার বিষয়। যাই হোক জোহান মামদানিকে নিয়ে একটু বলা প্রয়োজন। যিনি নির্বাচিত হবার পর একটি কথা বলেছেন সকলকে নিয়ে তিনি একটি সুন্দর দেশ গড়তে চান। দূর করতে চান সকল প্রকার বৈষম্য। জোহরান মামদানি হলেন একজন আমেরিকান রাজনীতিবিদ। যিনি ব্যক্তিগত ভাবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য এবং বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টে আ্যাসেম্বলির সদস্য হিসাবে কাজ করছেন।

তিনি একজন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিষ্ট এবং নিউ ইয়ার্ক সিটির মেয়রপদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছেন। তার নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ, বিনামূল্যে বাস পরিসেবা প্রদানএবং বড় কর্পোরেশন ও দনীদের উপর কর আরোপ করা। তিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকারে একজন সমর্থক এবং ইসরায়েলের কর্মকান্ডের সমালোচক হিসাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রেখেছেন। তিনি নিজেকে একজন মুসলিম এবং ভারতীয়-আমেরিকান হিসাবে পরিচয় দেন। ২০২০ সালে নিইয়র্ক অ্যাসেম্বরিতে প্রথম নির্বাচিত হন। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে চার মেয়াদেরক্ষমতাসীন আরাভেলা সিমোটাসকে পরাজিত করেন। তিনি ২০২২ এবং ২০২৪ সালে বিরোধিতা ছাড়া পুননির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের অক্টোবরে মামদানি ২০২৫ সালের নির্বাচনে নিউইয়র্কসিটির মেয়রের জন্য তার প্রার্থিতা ঘোসণা করেছিলেন।
মামদানির জন্ম ১৮ (আঠারো) অক্টোবর ১৯৯১। অভিবাসীদের উপর বিভিন্ন ধরণের অপমানজনক সিদ্ধান্ত মার্কিন মুলুকে অনেকটা ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই জয় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়লকে যে ভাবে সমর্থন দিয়ে অবশেষে গাঁজা শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগী বলে নিজেকে প্রমাণ করতে
চেয়েছেন তার আগে যে প্রাণহানি হয়েছে তার কি হবে ? অনেকটা হুমকির সুরে আফগানিস্তানে বাগমার বিমান ঘাঁটি দখলের কথা বলেছেন সেটি কি কোন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি হুমকি কিনা সেটি ভাবতে হবে, যদিও
আফগানিস্তানের বন্ধু রাষ্ট্র ভারত সুস্পষ্ট করে দিয়েছে , তারা সকল সময় আফগানিস্তানের সাথে রয়েছে। ইরানের বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবেও ভারত তার পাশে রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য শুল্ক নীতির ফলে রাশিয়া,চীন,ভারত
একসাথে চল নীতিতে এক হয়েছে। রাশিয়া ইরানের বন্ধুত্বও কিন্তু এই সুযোগে অনেকটা সুদৃঢ় হয়েছে।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিমান ক্রয়ের বাণিজ্যে নেমেছে মনে হয় মার্কিন বিমান বাণিজ্যের তোড়জোর দেখে। মার্কিন মুলুকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কতটুকু স্বস্তিতে আছে সেটি বোধ হয় তিনি অনুধাবন করতে পেরেছেন। সাড়া বিশে^ ইউএসএআইডি-এর কার্যক্রম ৯০ (নব্বই) দিনের জন্য স্থগিত এবং পরবর্তীতে বন্ধ করে দিয়ে তারা কতটুকু লাভবান হয়েছেন সেটি তারা ভাল জানেন। রাশিয়ার জ¦ালানি তেল ক্রয়ের অপরাধে বাণিজ্য শুল্ক বৃদ্ধিকরণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত হয়েছে সেটি মনে হয় তারা অনুধাবন করতে পেরেছেন। মার্কিন অর্থনীতি কতটুকু শক্তিশালী সেটি কিন্তু এখন অনেকে অনুধাবন করতে পেরেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এশিয়া সফর বলে দিচ্ছে তিনি কি চান? দীর্ঘদিন দিন ধরে যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন তাদের হঠাৎ এবং অপমানের সাথে বের করে দেওয়াটা মানবাধিকার খর্ব করে কিনা সেটি কিন্তু এখনকার আলোচনায় চলে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তৃতীয়বারের মত প্রেসিডেন্ট হবার স্বপ্ন দেখেছে তখন তার রাজনীতির পক্ষে মার্কিনীদের কতটুকু সমর্থন রয়েছে সেটি কিন্তু ভাবতে হবে।

বাংলায় একটি কথা আছে পরের ঘরের অশান্তি তৈরী করে নিজের ঘরের শান্তি তৈরী করা যায় না। গাঁজায় শিশু হত্যা, ক্ষুধার্ত মানুষের ত্রাণ শিবিরে হামলাকে অনেকটা নীরবে সমর্থন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হতে পারে!আমার দেশের মূল্যবান পোশাক শিল্প হাজার মানুষের অন্নের সংস্থান করে । স্বল্পমূল্যের শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের উপর বর্ধিত শুল্কের কি যুক্তি আছে সেটি কি প্রমাণ করা সম্ভব হবে? যাই হোক সাতসাগর আর তের নদী পার হবার পর যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়ক-এর মানুষ মামদানিকে নির্বাচিত মেয়র নির্বাচিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। মামদানিকে বিজয়ের শুভেচ্ছ। লেখক -বাপি সাহা

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট