
ডেস্ক:: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো। আজ থেকে শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশই এখন সবচেয়ে বড় নির্দেশ। ইসির নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি আদর্শ তৈরি করে।
নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিরাপত্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বডি ক্যামেরা এবং সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমান্ডের মূল ভূমিকায় থাকবে।
স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি জানান, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে বডি ক্যামেরা পৌঁছে যাবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুলিশ ড্রোন ব্যবহার করবে। ভোটকেন্দ্রের সব ঘটনা রেকর্ডের পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সংযোগ স্থাপনের সুবিধাও থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চলবে। সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি এবং গুজব ঠেকানো এবার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কমিশন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় তিনশ’ জনের একটি দল পর্যবেক্ষণে আসার কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক, গণভোট এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হবে।
অস্ত্র উদ্ধার ও বাহিনীর সমন্বয় সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৫৯টি (৬২.৪ শতাংশ) উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া ৫২ শতাংশ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বাহিনীগুলো পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রয়োজনে তাঁরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও প্রবেশ করতে পারবেন।
আনসার সদস্যদের ভূমিকা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে থাকবেন। ফলে কেউ অবৈধভাবে কোনো প্রার্থীর এজেন্টকে বের করে দিতে পারবে না।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের দিন সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
Leave a Reply