
ডেস্ক:: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের লক্ষ্যে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত শনিবার মধ্যরাতের ওই রক্তক্ষয়ী অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ভেনেজুয়েলার এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সরকারি বাহিনীর সেনাসদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। মাদুরোকে আটকের সময় রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী। মূলত ডেল্টা ফোর্সের স্থল অভিযানকে সুরক্ষা দিতেই এই বিধ্বংসী আকাশপথের হামলা চালানো হয়।
এদিকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে কিউবা সরকার জানিয়েছে, মাদুরোকে আটকের সময় সেখানে অবস্থানরত কিউবার সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ৩২ জন সদস্য মার্কিন হামলায় নিহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এই কিউবান কমান্ডো ও গোয়েন্দারা।
৩২ জন সেনা ও গোয়েন্দা নিহতের ঘটনায় কিউবা সরকার দেশটিতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এক বিবৃতিতে হাভানা জানায়, আমাদের দেশপ্রেমিকরা তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে পালন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মার্কিন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেছেন।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই অভিযানের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, নিকোলাস মাদুরোকে আটকের এই সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে ইহুদিবাদীরা পরোক্ষভাবে কাজ করেছে। ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করার এই প্রচেষ্টাকে তিনি ‘আন্তর্জাতিক দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিউবার প্রভাব দীর্ঘদিনের। মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলয়ে কিউবান গোয়েন্দাদের শক্ত অবস্থান ছিল, যার প্রমাণ মিলল এই অভিযানে তাদের বিপুল সংখ্যক সদস্য নিহতের মাধ্যমে।
Leave a Reply