রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বাগেরহাটে নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন আমরা মাদককে না বলব, সন্ত্রাসকে না বলব এবং খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলব-আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এসবি প্রধানের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কাস্টমস পরিদর্শন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ ইতালিতে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিকল: ৭ ঘণ্টা ধরে বিমানে আটকা ২৬০ যাত্রী ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন,ডাকছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন একদিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত ‘গণমাধ্যম এখনো স্বাধীন নয়’ বাগেরহাটে ডা. শফিকুর রহমান চিতলমারীতে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠান

‘ইরানের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপ করলে হাত কেটে ফেলা হবে’-তেহরানের বজ্রকঠিন হুঁশিয়ারি

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩২৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও ঘনীভূত হচ্ছে উত্তেজনার কালো মেঘ। একদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি, সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরীয় এই দেশটি এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং প্রভাবশালী সমরবিদ আলি শামখানি এক নজিরবিহীন ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় আঘাত হানার চেষ্টা করলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার, যখন অর্থনৈতিক সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে তেহরানের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। বাজারের মন্দা ভাব এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় এই ধর্মঘট খুব দ্রুতই গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।

কয়েক দিনের মধ্যেই এই আন্দোলন তেহরানের গণ্ডি পেরিয়ে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ছড়িয়ে পড়ে। যা ছিল কেবল অর্থনৈতিক দাবি, তা সময়ের ব্যবধানে রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে।

টানা পঞ্চম দিনে পদার্পণ করা এই বিক্ষোভ গতকাল শুক্রবার রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নেয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ছয়জন। আহত হয়েছেন অর্ধশতেরও বেশি মানুষ।

রাজপথে অগ্নিসংযোগ, সরকারি স্থাপনায় হামলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপের ফলে ইরানের পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত।

ইরানের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিতে দেরি করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ইরান সরকারকে হুমকি দিয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যদি কোনো ধরণের সহিংসতা চালানো হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক বা কৌশলগত হস্তক্ষেপ করতে দ্বিধা করবে না। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি উসকানি ও আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে মোক্ষম জবাব দেন আলি শামখানি। সর্বোচ্চ নেতার এই উপদেষ্টা বলেন, “ইরানের নিরাপত্তার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার দুঃসাহস দেখাবে যে কোনো হাত, তা সমূলে কেটে ফেলা হবে।”

তার এই মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও জাতীয় সংহতির এক চরম বহিঃপ্রকাশ। শামখানি অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমারা ইরানের বৈধ সরকারকে অস্থিতিশীল করতে বিক্ষোভকারীদের উসকে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের কোনো শক্তির নাক গলানো ইরান কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। তেহরান মনে করে, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে খর্ব করার একটি পুরোনো মার্কিন চাল।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলি শামখানির এই কঠোর বার্তা সরাসরি ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যেই প্রেরিত। ইরান গত কয়েক বছরে ড্রোন প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। শামখানির ‘হাত কেটে ফেলা’র রূপকটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি সরাসরি যুদ্ধের হুমকি।

যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরানও যে পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত, শামখানির বক্তব্যে তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। বর্তমানে ইরানের সামরিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ হলেন, আলি শামখানি ও তার সহযোগী সমর উপদেষ্টা দল।

ইরান সরকার এখন দ্বিমুখী সংকটে। একদিকে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠা জীবনযাত্রার মান এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সামলানো, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের বৈরী আচরণ ও নিষেধাজ্ঞার খড়গ।

শামখানি তার বক্তব্যে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পেছনে বিদেশি শক্তির মদদ রয়েছে। তিনি দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে জনগণকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে একতাবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন।

২০২৬ সালের এই প্রারম্ভে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এক ভয়াবহ মোড় নিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের ইচ্ছা এবং আলি শামখানির ‘হাত কেটে ফেলা’র কঠোর শপথ, এই দুই মেরুর লড়াই মধ্যপ্রাচ্যকে এক বড় ধরণের সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আগামী কয়েক দিন তেহরানের রাজপথ এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপই বলে দেবে, বিশ্ব কি আরও একটি যুদ্ধের সাক্ষী হতে যাচ্ছে, নাকি কূটনীতির টেবিলে এই উত্তেজনার অবসান ঘটবে। তবে আলি শামখানির এই বজ্রকঠিন কণ্ঠস্বর বিশ্বকে একটি বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে, ইরান তার নিরাপত্তা রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।

ইরানের এই অস্থিরতা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews