
বাগেরহাট প্রতিনিধি:: বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি, শারীরিক আক্রমণ এবং চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা নূর জাহান আক্তার তুলি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দীর্ঘ ৮ বছর প্রবাসে থাকার পর গত জানুয়ারি মাসে দেশে ফেরেন নূর জাহানের ভাই শাহরিয়ার সাগর। এলাকায় চুরি-ডাকাতি ও মাদকের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সুরক্ষার স্বার্থে তারা নিজ বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। এই সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা কুদ্দুসের ৪টি গরু, হাসি বেগমের ছাগল, আতিয়ারের স্ত্রীর স্বর্ণের চেইন এবং ইইউনুস শেখের অটোরিকশাসহ একাধিক চুরির ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
অভিযোগ করা হয়, গত মে মাসে সুযোগ বুঝে সন্ত্রাসীরা উক্ত সিসিটিভি ক্যামেরাটি চুরি করে নিয়ে যায়। সিসিটিভি চুরির প্রতিবাদ করায় স্থানীয় মাদক ও সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য পিন্টু মোল্লা, বাপ্পি শেখ, দাওদ শেখ ও মোতাহারসহ তাদের সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
নূর জাহান আক্তার তুলি বলেন, “অভিযুক্তরা এলাকায় অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও বেপরোয়া। ইতিপূর্বে তারা দিনমজুর আলী শেখকে নৃশংভাবে কুপিয়ে ও রড ঢুকিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পর আমার ভাই নিরাপত্তার স্বার্থে পুনরায় বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হয়। গত ৫ আগস্ট আসামিরা প্রকাশ্যে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা ও মেড়ে ফেলার হুমকি দেয়।”
তিনি আরও জানান, এসব ঘটনায় বাগেরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলে অভিযুক্তরা আরও মারমুখী হয়ে ওঠে। অভিযোগে সাক্ষী হওয়ার কারণে ভুক্তভোগীর খালা খুরশিদা বেগমকে দা নিয়ে কোপাতে আসে পিন্টু ও তার লোকজন। এসময় আসামিরা প্রকাশ্যে হুমকি দেয়, “আমি ১০টা মার্ডার করলেও কারো ক্ষমতা নেই আমাকে জেলে নেওয়ার।”
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই মাসুদ)-কে বারবার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন বা কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি। পিন্টু বাহিনীর আতঙ্কে বর্তমানে গ্রামের কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি জানান ভুক্তভোগীরা:
চিহ্নিত সন্ত্রাসী পিন্টু ও তার সশস্ত্র বাহিনীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি শাস্তি প্রদান করা।
ভুক্তভোগী পরিবার এবং মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সুলতানপুর গ্রামকে মাদক, চুরি ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে জেলা পুলিশ প্রশাসন, রেঞ্জ ডিআইজি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ।