1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শাহজালালের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় নামছেন তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে বন্দুকধারীর তাণ্ডব, নিহত ৬ মব দমন না করলে সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই-জাপা মহাসচিব নিউইয়র্কের নতুন মেয়র মামদানি ও স্পিলবার্গের গোপন বৈঠক: পর্দার আড়ালে কী আলোচনা? বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করল ইরানের সেনাবাহিনী তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারিতে উত্তপ্ত বিশ্বরাজনীতি ট্রাম্পকেও মাদুরোর মতো আটক করা উচিত ১৫ বছর পুলিশ দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল-আইজিপি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের বড় কূটনৈতিক জয়, মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত পোশাক রপ্তানির নতুন দিগন্ত বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সিলভার লাইন গ্রুপের পরিচালক মেহেদী হাসান প্রিন্সের পক্ষ থেকে কম্পিউটার প্রদান বাগেরহাটে অবসর কল্যান সমিতির বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের বড় কূটনৈতিক জয়, মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত পোশাক রপ্তানির নতুন দিগন্ত

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক:: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের জন্য বড় ধরনের শুল্ক সুবিধার পথ প্রশস্ত হয়েছে। ও

য়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারের মধ্যে এই যুগান্তকারী সমঝোতা হয়েছে।

এই বৈঠকের ফলাফল কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং এটি পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক গভীর কৌশলগত সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ হারে উচ্চ শুল্ক প্রদান করতে হয়। ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় এই শুল্ক হার অনেক বেশি হওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। ওয়াশিংটন সফররত ড. খলিলুর রহমান এই বৈষম্যের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করলে রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার এতে সম্মতি প্রকাশ করেন।

তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের এই শুল্ক হার কমিয়ে আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়টি তিনি স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উত্থাপন করবেন। যদি এই শুল্ক হার হ্রাস পায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো একটি উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল বাণিজ্য মডেল বা বিশেষ সুবিধা কর্মসূচির প্রস্তাব। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমান্তরাল বাণিজ্য নীতিতে এগোবে। প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে পরিমাণ তুলা এবং কৃত্রিম তন্তু আমদানি করবে, ঠিক সেই পরিমাণ বর্গমিটার ভিত্তিতে টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্তভাবে রপ্তানি করার সুযোগ পাবে।

এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের তুলা চাষি ও কৃত্রিম তন্তু উৎপাদনকারীরা বাংলাদেশের বিশাল বাজারে বড় ক্রেতা খুঁজে পাবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো উচ্চমানের কাঁচামাল ব্যবহার করে বিনা শুল্কে মার্কিন বাজারে পণ্য পাঠাতে পারবে। এই বর্গমিটার ভিত্তিক বিনিময় প্রথাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা একটি ভবিষ্যমুখী সমাধান হিসেবে বর্ণনা করছেন।

এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের সাথে বাংলাদেশের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও গভীর হবে, এতে পণ্যের গুণগত মান বাড়বে এবং সময় সাশ্রয় হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করে, এই আমদানিকৃত তুলা থেকে উৎপাদিত পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় রপ্তানি করা গেলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উৎপাদন বাড়লে তৈরি পোশাক খাতের লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

এছাড়া নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে আমেরিকার সাথে এমন চুক্তি বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, বরং ভূ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বড় জয়। ড. খলিলুর রহমানের এই সফল মিশন প্রমাণ করে যে, কৌশলগত কূটনীতির মাধ্যমে বড় বাজারগুলোর সাথে বৈষম্য দূর করা সম্ভব। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির এই ইতিবাচক অবস্থান বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রস্তাবটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোকে পেছনে ফেলে মার্কিন বাজারে একক আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হবে।

পাশাপাশি, আমেরিকান ব্র্যান্ডগুলোও এখন বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে উৎসাহিত হবে। ওয়াশিংটনের এই সাফল্য বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য কেবল নতুন প্রাণ সঞ্চার করেনি, বরং এটি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতার এক জোরালো বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে। আগামী দিনে এই শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এমনটাই আশা করা যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট