1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বাংলাদেশ নেই, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে ভয়াবহ ধস এপস্টেইনের কাছে ‘লম্বা, স্বর্ণকেশী সুইডিশ তরুণী’ চেয়েছিলেন আম্বানি পশ্চিমা আভিজাত্যের নগ্ন অবয়ব, এপস্টেইনের দ্বীপ থেকে গাজার ধ্বংসস্তূপ নির্বাচনের আগের ২ দিনে একযোগে দেশব্যাপী ‘সারপ্রাইজ অভিযান’ গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার- প্রেস সচিব ঢাকার যে দুটি আসনকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ বলল সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো অন্যায় সহ্য করা হবে না -মনিরুল হাসান বাপ্পী কোস্টগার্ডের অভিযানে ট্রলিং বোট সামুদ্রিক মাছসহ ৩৪ জেলে আটক বাগেরহাটে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের বিক্ষোভ মিছিল সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে কোস্টগার্ড

পশ্চিমা আভিজাত্যের নগ্ন অবয়ব, এপস্টেইনের দ্বীপ থেকে গাজার ধ্বংসস্তূপ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: সভ্যতার লেবাসে ঢাকা আধুনিক পশ্চিমা বিশ্ব আজ এক গভীর নৈতিক সংকটের মুখোমুখি। যে অভিজাত শ্রেণি নিজেদের বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং নৈতিকতার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দাবি করে, তাদের সেই নৈতিক মুখোশ আজ খসে পড়ছে। এই মুখোশ উন্মোচনের দুটি সমান্তরাল দালিলিক প্রমাণ আমাদের সামনে হাজির হয়েছে।

এর একটি হলো যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অন্ধকার জগতের নথিপত্র, আর অন্যটি হলো গাজায় চলমান নির্মম হত্যাযজ্ঞ। ব্রিটিশ তিউনিসীয় লেখক সুমাইয়া ঘান্নুশির দৃষ্টিভঙ্গিতে, এই দুটি ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একই বৈশ্বিক শোষণ কাঠামোর দুটি ভিন্ন রূপ মাত্র।

জেফরি এপস্টেইনের লালসার শিকার হওয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের করুণ আর্তনাদ কেবল ব্যক্তিগত অপরাধের গল্প নয়। এটি একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থার অংশ। এপস্টেইন অত্যন্ত সুকৌশলে দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এক মানবপাচার চক্র গড়ে তুলছিলেন। যেখানে মেয়েদের কেবল একটি পণ্য হিসেবে দেখা হতো।

ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে কিংবা মারিয়া ফার্মারের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ সত্য যে ক্ষমতাবানদের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। সেখানে আইনজীবীরা ঝুঁকি মেপেছেন এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠান নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করেছে। অর্থ দিয়ে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এটি ছিল ক্ষমতাহীনদের ওপর ক্ষমতাবানদের এক পদ্ধতিগত আধিপত্য।

একটি প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে শাসকগোষ্ঠী বিদেশের মাটিতে হাজার হাজার মাইল দূরে ড্রোন হামলা বা যুদ্ধের মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করতে অভ্যস্ত, তারা কি দেশের অভ্যন্তরে হঠাৎ করে পরম ধার্মিক বা নীতিবান হয়ে উঠবে? উত্তরটি হলো না। ইরাকে নিষেধাজ্ঞার নামে শিশুদের মৃত্যু যখন নীতির মূল্য হিসেবে জায়েজ করা হয়, তখন থেকেই এটি স্পষ্ট।

আবু গারিব কারাগারে বন্দীদের নগ্ন করে যৌন নির্যাতনকে যখন ব্যতিক্রমী ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই অভিজাতদের কাছে মানুষের শরীরের কোনো মর্যাদা নেই। পশ্চিমা সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করতে চেয়েছে যে বিদেশের নৃশংসতা আর ঘরের ভেতরের নৈতিকতা আলাদা। কিন্তু এপস্টেইন ফাইল প্রমাণ করেছে যে যারা গাজায় রক্ত ঝরাতে পারে, তারা শিশুদের ওপর নির্যাতন চালাতেও দ্বিধা করে না।

এপস্টেইনের জগতটি কেবল যৌন লালসার কেন্দ্র ছিল না, এটি ছিল গোয়েন্দা প্রযুক্তি এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের মেলবন্ধন। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে একাধিকবার এপস্টেইনের আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন। এই সময়েই এপস্টেইন তাকে ‘প্যালান্টির টেকনোলজিস’ নামক একটি নজরদারি প্রতিষ্ঠানের দিকে মনোনিবেশ করতে বলেন।

প্যালান্টির বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ডেটা অ্যানালিটিক্স বা তথ্য বিশ্লেষণ এবং নজরদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে তারা সরাসরি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছে। তাদের তৈরি করা ডিজিটাল কিল চেইন বা ডিজিটাল হত্যা শিকল গাজায় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং ধ্বংসযজ্ঞে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। এপস্টেইন যা ব্যক্তিগত লালসার জন্য করতেন, প্যালান্টির তা-ই করছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে।

সহিংসতা যখন সফটওয়্যার এবং কোডিংয়ের মাধ্যমে বৈধতা পায়, তখন তাকে আর আড়াল করার প্রয়োজন পড়ে না। প্যালান্টির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও অ্যালেক্স কার্প যখন প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের এই ধ্বংসযজ্ঞকে সভ্যতার দায়িত্ব হিসেবে আখ্যা দেন, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে অপরাধী ও প্রযুক্তিবিদদের ভাষা এক হয়ে গেছে। গাজার ধ্বংস কোনো যান্ত্রিক ভুল নয়, এটি সেই একই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

কেন জাঁদরেল সব রাজনীতিক, বিজ্ঞানী বা ধনকুবেররা এপস্টেইনের দ্বীপে যেতেন? সুমাইয়া ঘান্নুশির মতে, এপস্টেইন তাদের কেবল ভোগ দেননি, বরং একটি নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। সেই নিশ্চয়তাটি হলো প্রচলিত আইন বা নৈতিকতা তাদের জন্য নয়। এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে চড়া বা তার দ্বীপে যাওয়ার মানে ছিল একটি বিশেষ বৃত্তের সদস্য হওয়া।

এমন একটি বৃত্ত, যেখানে কোনো কাজের জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না। তিনি এই অভিজাতদের অধিকারবোধকে একটি ফাঁদে রূপান্তরিত করেছিলেন। ক্ষমতাবানদের কাছে নিজের মর্যাদা রক্ষাই যখন একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন তারা যে কোনো জঘন্য কাজেও লিপ্ত হতে পারে। গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি শিশু আর এপস্টেইনের দ্বীপে নিগৃহীত হওয়া একটি মেয়ে একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।

পশ্চিমা বিশ্ব একদিকে অন্য দেশগুলোকে বর্বর বা অসভ্য বলে তকমা দেয়, আবার অন্যদিকে তারা নিজেরাই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সুপরিকল্পিত গণহত্যা চালায়। এপস্টেইন ফাইল এই ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ পচনকে সামনে এনেছে, আর গাজা প্রকাশ করেছে এর প্রকাশ্য নিষ্ঠুরতাকে। এই দুই মিলে আজ পশ্চিমা আভিজাত্যের সেই মেকি নৈতিক মুখোশকে চিরতরে ছিঁড়ে ফেলেছে। পৃথিবী আজ দেখছে এক উলঙ্গ শাসক শ্রেণিকে, যারা কেবল নিজের বিশেষাধিকার রক্ষার জন্য মানবতাকে বিসর্জন দিতে সদা প্রস্তুত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট