
নিজস্ব প্রতিবেদক:: শহীদ শরীফ ওসমান হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেবে না সরকার। জুলাই বিপ্লবের এই নির্ভীক সংগঠককে হত্যার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের চিহ্নিত করতে এবং বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (OHCHR) সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা।
রোববার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন গত শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরে একটি আনুষ্ঠানিক ‘নোট ভারবাল’ (Diplomatic Note) প্রেরণ করেছে।
এই চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের জন্য ওএইচসিএইচআর-এর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে। জেনেভা মিশন থেকে জানানো হয়েছে যে, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া মাত্রই তা দ্রুততম সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।
শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে নস্যাৎ করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ইতিপূর্বে ৫ বার পিছিয়ে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল।
তদন্ত প্রক্রিয়াটি যেন কোনো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে না পড়ে। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে আধুনিক ফরেনসিক ও তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তা লাভ, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী হবে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বর্তমান সরকার শতভাগ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সরকার বিশ্বাস করে, এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের ওপর জুলাই বিপ্লবের অনেক শহীদ পরিবারের আস্থা নির্ভর করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়। আমরা চাই অপরাধী যে-ই হোক, তাকে যেন আন্তর্জাতিক মানের একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন রাজপথে সোচ্চার রয়েছে। সম্প্রতি জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা সাদিক কায়েম এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ‘লীগমুক্ত’ পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ার জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন। সরকারের আজকের এই সিদ্ধান্ত সেই আন্দোলনেরই একটি নৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের এক মূর্ত প্রতীক। তাঁর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা চাওয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্ব দরবারে একটি পরিষ্কার বার্তা দিল নতুন বাংলাদেশে বিচারহীনতার কোনো স্থান নেই। এখন বল জাতিসংঘের কোর্টে; তাদের কারিগরি সহায়তায় এই মামলার জট কত দ্রুত খোলে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে নিহতের পরিবার ও সচেতন দেশবাসী।
Leave a Reply