1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :

গাজায় যুদ্ধের দামামা: ইসরায়েলের ‘নিরস্ত্রীকরণ’ আল্টিমেটাম উড়িয়ে দিল হামাস

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরার ক্ষীণ আশা আবারও ফিকে হয়ে আসছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার হামাসকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অস্ত্র সমর্পণের আল্টিমেটাম দিয়েছে।

হামাস ইসরায়েলের এই দাবিকে ভিত্তিহীন হুমকি হিসেবে অভিহিত করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো অবস্থাতেই শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।

সোমবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োসি ফুচস এই চূড়ান্ত সময়সীমার ঘোষণা দেন। এরপরই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলি সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়োসি ফুচস বলেন, গাজায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে হামাসকে আগামী দুই মাসের মধ্যে সব সমরাস্ত্র ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে জমা দিতে হবে।

এই নিরস্ত্রীকরণের আওতায় সাধারণ একে-৪৭ রাইফেলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। মার্কিন প্রশাসন এই ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণের অনুরোধ করেছিল বলে তিনি জানান।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হামাস অস্ত্র জমা না দিলে ইসরায়েলি বাহিনী আবারও গাজায় সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করবে বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ মারদাবি এই হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, নেতানিয়াহু যেসব বিবৃতি দিচ্ছেন কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে তার কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নেই।

মারদাবি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েল নতুন করে যুদ্ধ শুরু করলে পুরো অঞ্চলের জন্য তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। ফিলিস্তিনিরা তাঁদের ন্যায্য অধিকারের লড়াইয়ে কখনও হার মানবে না।

চলতি মাসের শুরুতে হামাস নেতা খালেদ মেশালও অনুরূপ অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, দখলদারিত্বের অধীনে থাকা জাতির কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার অর্থ হলো তাদের শত্রুর সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা।

মেশালের মতে, ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ করা মানেই নিজেদের ধ্বংস ত্বরান্বিত করা। গত জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

হোয়াইট হাউস হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি তদারকির কথা বলেছিল। তবে ইসরায়েল গাজার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে নারাজ এবং হামাসও আত্মরক্ষার শেষ সম্বলটুকু ছাড়তে রাজি নয়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নেতানিয়াহুর এই আল্টিমেটাম মূলত গাজায় সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘায়িত করার অজুহাত। হামাস নিরস্ত্রীকরণ মেনে না নিলে ৬০ দিন পর ইসরায়েল আবারও হামলার আইনি বৈধতা খোঁজার চেষ্টা করবে।

গাজা সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি বাহিনী বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হামলা চালাচ্ছে। এই হামলার ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

৬০ দিনের এই সময়সীমা শান্তির পথ প্রশস্ত করবে নাকি নতুন এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূচনা করবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মাহমুদ মারদাবির ভাষায়, ফিলিস্তিনিরা আত্মসমর্পণের চেয়ে লড়াইকেই বেছে নেবে।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট