শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বাগেরহাটে নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন আমরা মাদককে না বলব, সন্ত্রাসকে না বলব এবং খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলব-আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এসবি প্রধানের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কাস্টমস পরিদর্শন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ ইতালিতে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিকল: ৭ ঘণ্টা ধরে বিমানে আটকা ২৬০ যাত্রী ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন,ডাকছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন একদিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত ‘গণমাধ্যম এখনো স্বাধীন নয়’ বাগেরহাটে ডা. শফিকুর রহমান চিতলমারীতে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠান

তারেক রহমানের ‘পাকিস্তান টেস্ট’: ইউনুস-পরবর্তী ঢাকা কি দিল্লির দিকে ঝুঁকছে?

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর এখন বিশ্বরাজনীতির বড় আলোচনার বিষয়—কেমন হবে আগামী দিনের বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি? বিশেষ করে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাকিস্তান ও ভারতের সাথে সম্পর্কের যে ভারসাম্য তৈরি হয়েছিল, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান তা কীভাবে সামলাবেন? আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ‘আইএএনএস’ (IANS) এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘পাকিস্তান টেস্ট’।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্কের এক অভূতপূর্ব উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে তারেক রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার পর এই সমীকরণ বদলে যাওয়ার জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকালে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে বরফ গলেছিল, তা নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ইউনূস প্রশাসন পাকিস্তানকে অনেক বেশি সুযোগ সুবিধা দিয়ে ফেলেছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা সহজীকরণ এবং বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় পাকিস্তানের অবাধ প্রবেশাধিকার। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি ছিল, সমুদ্রপথে এই অবাধ যাতায়াত জঙ্গিবাদ বিস্তারে বা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

বিগত কয়েক মাসে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের (ISI) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একাধিক সফর বাংলাদেশে হয়েছে। ভারত মনে করে, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে সামরিক ঘাঁটি বা পরোক্ষভাবে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো নেটওয়ার্ক তৈরি করা।

বিএনপি অতীতে (২০০১-২০০৭) যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন ভারতের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল প্রবল। ভারত সবসময় অভিযোগ করত যে, বিএনপি সরকার ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্লেষক অভিনব পান্ডিয়া মনে করেন, তারেক রহমান এবার অত্যন্ত প্রজ্ঞার পরিচয় দিচ্ছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় তারেক রহমানের একটি স্লোগান ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল— ‘নট দিল্লি, নট পিন্ডি… বাংলাদেশ ফার্স্ট।‘এই স্লোগানটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, তাঁর সরকার কোনো দেশের তাবেদারি করবে না। তারেক রহমান ভালো করেই জানেন যে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ পাকিস্তানের সাথে সুসম্পর্ক চাইলেও ১৯৭১-পূর্ববর্তী পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

এবারের নির্বাচনে বিএনপির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ছিল জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ না হওয়া। অতীতে বিএনপি ও জামায়াতকে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ মনে করা হলেও এবার তারা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করেছে। তারেক রহমান নির্বাচনী জনসভায় ১৯৭১ সালের যুদ্ধে জামায়াতের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার সমালোচনা পর্যন্ত করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতকে দূরে রাখার মাধ্যমে তারেক রহমান দুটি বিষয় নিশ্চিত করেছেন-

১. তিনি ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তাঁর সরকার উগ্রপন্থিদের প্রশ্রয় দেবে না।

২. তিনি পশ্চিমা বিশ্বকে বার্তা দিয়েছেন যে, বিএনপি এখন একটি আধুনিক মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল।

ইসলামাবাদ অবশ্য এখনই আশা ছাড়ছে না। কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের মতে, পাকিস্তান আগামী কয়েক দিন ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ বা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নীতি অনুসরণ করবে। তারা এখনই তারেক রহমানের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে না, বরং তাঁকে সরকার গুছিয়ে নেওয়ার সময় দেবে। তবে ভারত সতর্ক থাকবে এই কারণে যে, ইউনূস জমানায় পাকিস্তান যে সুযোগগুলো পেয়েছিল, তারেক রহমান সেগুলো বহাল রাখেন কি না।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, তারেক রহমান পাকিস্তানের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও আইএসআইকে বাংলাদেশের মাটিকে ‘খেলার মাঠ’ (Playground) বানাতে দেবেন না—যেমনটা ইউনূসের আমলে হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের মানুষের নাড়ি নক্ষত্র তারেক রহমান ভালোভাবেই বোঝেন। দেশের মানুষের একটি বড় অংশ মনে করে, জামায়াত এবং আইএসআই যদি বাংলাদেশে বেশি জায়গা পায়, তবে ১৯৭১-এর মতো অস্থিরতা আবার ফিরে আসতে পারে। এই জনমতকে গুরুত্ব দিয়েই তারেক রহমান তাঁর পররাষ্ট্রনীতি সাজাচ্ছেন।

তাঁর তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হবে সহিংসতা জর্জরিত দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ভেঙে পড়া অর্থনীতি সংস্কার করা। এই কাজে সফল হতে হলে ভারতের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য—উভয়ই তাঁর জন্য জরুরি।

তারেক রহমানের আসন্ন সরকার যদি সত্যিই তাঁর ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। দিল্লিকে তিনি বন্ধু হিসেবে চান, কিন্তু প্রভু হিসেবে নয়; আবার পিন্ডিকে তিনি সহযোগী হিসেবে চান, কিন্তু নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়।

এই ভারসাম্য রক্ষাই হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। ভারতও হয়তো ঢাকার সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক মেনে নেবে, যদি তারেক রহমান নিশ্চিত করতে পারেন যে বাংলাদেশের মাটি ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews