
ডেস্ক:: দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে জাতীয় সংসদে মোট ৪১টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) একদিনেই পাস হয় রেকর্ডসংখ্যক ৩১টি বিল।
শুক্রবার আরও ১০টি বিল সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। পাসের তালিকায় থাকা অধিকাংশ বিলই অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ থেকে আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে ৩১টি বিল পাস হয়। তবে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাসের সময় সংসদে উত্তাপ ছড়ায়। বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান একে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
এর আগে বিতর্কে অংশ নিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের বসানোর আইনি সুযোগ নেই। জবাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরাবৃত্তি রোধ এবং স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক প্রথা বাতিলের জন্যই এই সংশোধন প্রয়োজন। বর্তমান সরকার দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের ১৩তম কার্যদিবসে কোনো সংশোধনী ছাড়াই আরও ১০টি বিল পাস হয়।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) বিল এবং আমানত সুরক্ষা বিল।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি বিল আকারে পাসের সুপারিশ করা হয়েছিল। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা বিল, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী বিল, জেলা ও উপজেলা পরিষদ সংশোধন বিলসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আইন।
জামায়াতের ওয়াকআউটের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইন প্রণয়নের সব প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পর তাদের ওয়াকআউট করা নিরর্থক।
Leave a Reply