
সময়টা ২০২৬ সালের (২ জানুয়ারি) শুক্রবার। শীতের পড়ন্ত বিকেলে ঢাকার আকাশ কিছুটা ধূসর হলেও জিয়া উদ্যানের পরিবেশ ছিল আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত।
বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে এদিন অগণিত মানুষ ভিড় জমান। নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবার গন্তব্য ছিল একটাই, প্রিয় নেত্রীর অন্তিম শয়ানের স্থান।
শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই জিয়া উদ্যান এলাকায় মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। বিকেল গড়াতেই সেই ভিড় জনসমুদ্রে রূপ নেয়। কবরের সামনে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষকে হাত তুলে মোনাজাত করতে দেখা যায়।
অনেককেই দেখা গেছে, নীরবে চোখের জল মুছতে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে দেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তার কবরের পাশের এই দৃশ্য যেন তারই প্রমাণ দিচ্ছিল।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের হাজারো নেতাকর্মী এদিন ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানে আসেন। দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা, কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে জিয়ারতে অংশ নেন। তাদের মুখে ছিল প্রিয় নেত্রীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার দোয়া।
অনেক নেতা জানান, বেগম খালেদা জিয়া কেবল তাদের নেত্রী ছিলেন না, ছিলেন এক আদর্শিক মা। তার অনুপস্থিতি যে বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে, তা কোনোদিন পূরণ হবার নয়।
কবর জিয়ারত করতে আসা সাধারণ মানুষের মাঝে ছিল মিশ্র অনুভূতি। দূর, দূরান্ত থেকে আসা অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিককে দেখা গেছে লাঠিতে ভর দিয়ে কবরের সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া করতে।
তাদেরই একজন বলেন, “দেশনেত্রী আজীবন আমাদের জন্য লড়াই করেছেন। তার জন্য দোয়া করতে আসব না, তা কি হয়?” সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বেগম খালেদা জিয়া দল, মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন।
অগণিত মানুষের এই ভিড় সামলাতে জিয়া উদ্যান এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি সত্ত্বেও পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ভাবগম্ভীর এবং সুশৃঙ্খল। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মানুষ জিয়ারত সম্পন্ন করেন এবং মোনাজাত শেষে ধীরস্থিরভাবে প্রস্থান করেন। জিয়ারত শেষে অনেককে জিয়ারতস্থলের পবিত্রতা রক্ষায় সচেতন থাকতে দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেগম খালেদা জিয়ার কবরে মানুষের এই অবিরত ভিড় কেবল শোকের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি তার আদর্শের প্রতি জনগণের অবিচল আস্থার প্রতীক। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়েও মানুষের এই আবেগ প্রমাণ করে যে, তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং দেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা চিরকাল অম্লান থাকবে। এই আবেগী পরিবেশে উপস্থিত হওয়া উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ জাতীয় নেতৃবৃন্দ।
বিকেলের সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়ছিল, তখনো মানুষের ভিড় কমেনি। মোনাজাতের ধ্বনিতে মুখরিত ছিল চারপাশ। উপস্থিত সকলে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন যেন দেশনেত্রীকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করা হয়। বেগম খালেদা জিয়ার কবর আজ কেবল একটি স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
২ জানুয়ারির এই বিকেলটি সাক্ষী হয়ে রইল, নেতা চলে যান, কিন্তু তার আদর্শ ও মানুষের ভালোবাসা থেকে যায় যুগ যুগ ধরে। জিয়া উদ্যানের এই দৃশ্যই বলে দিচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে আছেন কোটি মানুষের হৃদয়ে, তার আদর্শ মিশে আছে বাংলার ধূলিকণায়।
Leave a Reply