
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নে কেয়ার বাংলাদেশ-এর আয়োজনে জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চা ও শিখন বিনিময় মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন ও দক্ষ করে তোলাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় চিলা ইউনিয়নের কেয়াবুনিয়া মাঠে আয়োজিত এ শিখন বিনিময় মেলায় ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা অংশগ্রহণ করে। মেলায় মোট ১০টি স্টলের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ প্রদর্শন করা হয়।
স্টলগুলোতে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণে ব্যবহৃত আধুনিক বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম, লবণ সহিষ্ণু বীজ, উন্নত চুলা, সৌরচালিত সেচ পাম্প ও এ্যারেটর, অ্যাডাপটিভ কিচেন গার্ডেন, জলবায়ু সহনশীল ও প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেট, ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার, বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং গৃহপালিত পশুপালনসহ বিভিন্ন জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি প্রদর্শিত হয়।
এছাড়াও একটি বিশেষ স্টলে কার্যকর জলবায়ু ও আবহাওয়া তথ্য পরিষেবা বুথ স্থাপন করা হয়। সেখানে আগত কৃষকদের নিবন্ধনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কেয়ার বাংলাদেশের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
ডিএসকে-এর প্রজেক্ট অফিসার (ক্যাপাসিটি বিল্ডিং) হামিদা আক্তার বাঁধনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) নওসীনা আরিফ ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রশান্ত হাওলাদার।
এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন কেয়ার বাংলাদেশের কর্মকর্তা লুৎফা পারভিন, সজল কুমার সাহা, হাবিবুর রহমান, সুভাষ চন্দ্র রায়সহ কেয়ার বাংলাদেশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ। কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল আমিন, আইডিই, ডিএসকে ও সিএনআরএস-এর প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক কৃষক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে কেয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধি সজল কুমার সাহা বলেন, “কেয়ার বাংলাদেশ খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে কৃষি চর্চা ও শিখন বিনিময় কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় চিলা ইউনিয়নে এই আয়োজন করা হয়েছে, যা নবপল্লব প্রকল্পের আওতায় ব্যবহৃত আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের পরিচিতি বাড়াবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন,
‘নবপল্লব প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চা প্রদর্শনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে, যা এই অঞ্চলের মানুষের জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত হাওলাদার বলেন,
‘কৃষিখাতকে কীভাবে সম্প্রসারিত ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর করা যায়—তা এই শিখন বিনিময়ে বাস্তবভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমি আগত সকল কৃষককে এসব প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার আহ্বান জানাই।’
Leave a Reply