
ডেস্ক:: বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তার ঠিক আগের দিন সেনাপ্রধানের এই বিদায়ী সাক্ষাৎকে একটি সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সাক্ষাৎকারটি ছিল অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ। তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছালে সেনাপ্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্ব পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং গত দেড় বছরের উত্তাল সময়ে দেশ ও জাতির সেবায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
বিশেষ করে ৫ই আগস্ট পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর ছায়ার মতো পাশে থাকাকে তিনি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যে নিরলস পরিশ্রম ও নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
নির্বাচনের সময় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনাদের সহযোগিতার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জবাবে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, দেশ ও জনগণের সেবায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখতে আমরা অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলাম।
এই বিদায়ী সাক্ষাৎটি মূলত একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সংকেত। উল্লেখ্য যে, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় জয়ের পর আগামীকাল বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিতে যাচ্ছে। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাথে সাথেই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।
আজ প্রধান উপদেষ্টার সাথে তাঁর এই সাক্ষাৎ মূলত সেই প্রত্যাবর্তনেরই এক আনুষ্ঠানিক রূপরেখা। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে সেনাবাহিনী প্রধানের এই শেষ আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। সংঘাত নয়, বরং সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে এই দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো।
Leave a Reply