শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব দেশে ২ বিষয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে অসুস্থ মেয়েকে দেখে ফেরার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত বাবা নাভারনে সাংবাদিক নজরুলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা,হাসপাতালে ভর্তি বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন দিপু সভাপতি, জালাল সম্পাদক নির্বাচিত টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক দুই আন্তর্জাতিক বাজারে কমল স্বর্ণের দাম ইরানের হামলায় ৩টি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস ট্রাম্পকে ব্যস্ত রেখেই মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’! ২০২৬ সালের মধ্যে বন্ধ কারখানা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ডেভিড ইমনের কাছে মিলল ভারতের আধার কার্ড, নাম ‘আজহার খান’

রামিসা হত্যা মামলা,আসামি সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ১৬২ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক:: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।

রায়কে কেন্দ্র করে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আজ সকালেই কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর বিচারক রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ রায় দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৮টা ৪৯ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং তার কিছু সময় আগে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। এরপর বেলা ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালে দুই আসামি এবং উভয়পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে রায় পড়া শুরু হয়।

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে মামলাটির বিচারকাজ শেষ হলো। ঈদের ছুটি বাতিল করে বিশেষ ব্যবস্থায় এই মামলার শুনানি ও দ্রুততম সময়ে সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

গত ১৯ মে দিবাগত রাতে মামলা দায়েরের পর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত ওই দিনই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারকও একই দিনে এটি আমলে নেন।

এরপর গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। পরের দিন ২ জুন মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন। আদালত মাত্র এক দিনেই সব সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করে। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। ৪ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে একপর্যায়ে তার বাবা-মা ওই ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বালতির ভেতর মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হলে তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ শেষে গলা কেটে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করলে পুলিশ পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews