1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
এবার সরাসরি ক্যালিফোর্নিয়ায় হামলার পরিকল্পনা ইরানের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি খালেদা জিয়া, খামেনিসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব বিগত দেড় দশকে এমপিরা কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না-প্রধানমন্ত্রী আ.লীগের ফ্যাসিবাদী আমলে ইসির প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোটায় নেমেছিল-রাষ্ট্রপতি সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি-প্রধানমন্ত্রী পাইকগাছায় অবৈধ জাল জব্দ; পোনা নদীতে অবমুক্ত ভারতে পাচারের জন্য আনা ৫৫ লাখ টাকার স্বর্ণেরবারসহ পাচারকারী আটক সুন্দরবন থেকে অস্ত্রসহ করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক দাকোপে দলিত নারী ও কিশোরদের অধিকার সুরক্ষায় মতবিনিময় সভা

সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪৪তম জন্মবার্ষিকী

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪১৪ বার পড়া হয়েছে

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:: ৪ নভেম্বর বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক ও প্রগতিশীল মননের সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪৪তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে তাঁর জন্মস্থান খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুরে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান জানান, মঙ্গলবার সকালে পাইকগাছা উপজেলার নতুনবাজার চত্বরে সাহিত্যিকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ শতকের সূচনালগ্নে সমাজজীবনের কুসংস্কার, গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতার ভেতর থেকেও মুক্তচিন্তার বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হক। তিনি ছিলেন সংস্কারমুক্ত, উদার মানবতাবাদী, মননশীল ও যুক্তিবাদী লেখক। মুসলিম সমাজের অন্ধ অনুশাসন ও পশ্চাৎপদতার বিপরীতে তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মে স্বাধীনচেতা, প্রগতিশীল ও শিক্ষিত নব্যসমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁর একমাত্র উপন্যাস ‘আবদুল্লাহ্’ বাংলা সাহিত্যে যুগান্তকারী সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃত, যেখানে মুসলিম সমাজের বাস্তবচিত্র ও নবজাগরণের আহ্বান মূর্ত হয়েছে। একটিমাত্র উপন্যাস রচনা করেই তিনি বাংলা সাহিত্যে রেখে গেছেন স্বতন্ত্র প্রতিভার অনন্য ছাপ।

১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামে কাজী ইমদাদুল হকের জন্ম। তাঁর পিতা কাজী আতাউল হক আসামে জরিপ বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তীতে খুলনার ফৌজদারি আদালতের মোক্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯০০ সালে তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯১৪ সালে বিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কর্মজীবনে তিনি কলকাতা মাদ্রাসা, ঢাকা মাদ্রাসা, ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও কলকাতা ট্রেনিং স্কুলসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শক ও সদ্য প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বোর্ডের সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ১৯১৯ সালে ‘খান সাহেব’ এবং ১৯২৬ সালে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।

১৯০৪ সালে তিনি খুলনার মৌলভী আব্দুল মকসুদ সাহেবের জ্যেষ্ঠ কন্যা সামসন্নেসা খাতুনকে বিয়ে করেন। তাঁর চার পুত্র—কাজী আনারুল হক, কাজী সামছুল হক, কাজী আলাউল হক, কাজী নুরুল হক এবং দুই কন্যা—জেবুন্নেছা ও জিন্নাতুনন্নেছা।

বাংলা সাহিত্যের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র ১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

প্রসঙ্গত, কাজী ইমদাদুল হকের জন্মভূমি পাইকগাছার গদাইপুরে প্রতিবছর তাঁর জন্মদিনে স্থানীয় সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট