
ডেস্ক:: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইয়ার ইয়াবস জানিয়েছেন, তারা কেবল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জুলাই সনদ বা সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকছে না। সংবাদ সম্মেলনে ইয়াবস দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তিনি মনে করেন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ এবং ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ থাকা জরুরি।
তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কেবল ভোটের দিন নয়, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা এখানে দুই মাস থাকব এবং নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে কি না, তা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করব।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদল মনে করে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য। ইয়াবস বলেন, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারেন এবং গণমাধ্যম যেন কোনো বাধা ছাড়াই কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে সাধারণ ভোটাররা ভীত না হয়ে বরং আশ্বস্ত বোধ করেন।
নির্বাচন কমিশন একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইয়াবস। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কর্মপরিধি নির্দিষ্ট করা হয়েছে কেবল সাধারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য। গণভোট একটি ভিন্ন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হওয়ায় সে বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণের কোনো পরিকল্পনা নেই।
এবারের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। ইয়ার ইয়াবস জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ৯০ সদস্যের একটি স্বল্পকালীন পর্যবেক্ষক দল আসবে। কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশের পর্যবেক্ষক মিলিয়ে মোট সদস্য সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে।
ইতিমধ্যে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশন প্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
তিনি বলেন, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রত্যাশা করি যেখানে সমাজের সব শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতিফলন ঘটবে।
Leave a Reply