বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
কলম্বিয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৭৫ জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে-প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু জিপিএ-৫ এবং যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া সোয়াইব হাসান প্রকৌশলী হতে চায় বটিয়াঘাটা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা’র উপর দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন চট্টগ্রামে কোস্টগার্ডের উদ্যোগে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক জনসচেতনতামূলক মহড়া কোস্টগার্ডের অভিযানে ভারত থেকে পাচার করে আনা অবৈধ পণ্য জব্দ বাগেরহাট সদর হাসপাতালে আগুন পুড়ল ৮ টি মটর সাইকেল খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার উপর হামলার প্রতিবাদে দাকোপে মানববন্ধন খুলনায় ছেলেকে না পেয়ে ঘরে ঢুকে মাকে গুলি

বিশ্বকাপে টাইগারদের ভেন্যু কি পাকিস্তান? ভারতের ওপর বিসিবির অনড় অবস্থানে পিসিবির আগ্রহ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২০৩ বার পড়া হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক:: বিশ্ব ক্রিকেটে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশের সাফ মানা এবং এর বিপরীতে পাকিস্তানের মাঠ ব্যবহারের প্রস্তাব, সব মিলিয়ে এক গোলমেলে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

উগ্রবাদীদের চাপের মুখে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। যা এখন কেবল আর ২২ গজে সীমাবদ্ধ নেই, পৌঁছে গেছে দেশগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে। ঘটনার শুরুটা হয়েছিল বেশ আকস্মিকভাবে। আইপিএলের অন্যতম জনপ্রিয় দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে হঠাত করেই মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা আসে।

অভিযোগ ওঠে, ভারতের কট্টরপন্থী উগ্রবাদীদের চাপের মুখেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স বা বিসিসিআই এই বিষয়ে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে দেশে আইপিএলের সম্প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।

একইসঙ্গে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে চিঠি লিখে জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

বিসিবির এই কঠোর অবস্থানের সুযোগে এবার নাটকীয়ভাবে প্রবেশ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তানের জিও টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবকটি ম্যাচ আয়োজনের জন্য পাকিস্তান এখন প্রস্তুত ও সুসজ্জিত।

পিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল যদি বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে না পায়, তবে পাকিস্তান তাদের সেরা ভেন্যুগুলো দিয়ে সহায়তা করতে চায়। পিসিবি মনে করে, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সফলভাবে আয়োজন করার অভিজ্ঞতা তাদের আছে, তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের ম্যাচ আয়োজন তাদের জন্য কোনো কঠিন কাজ হবে না। পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে এখনো প্রস্তাব না দিলেও, তারা বিসিবির এই ভারত বর্জন অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বর্তমান চেয়ারম্যান জয় শাহ আজ গুজরাটের বরোদরায় বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকে বসার কথা ছিল। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের সমাধান খুঁজে বের করা। তবে বৈঠকটির ফলাফল বা আদৌ তা অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।

বিসিবি যদি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে বড় ধরণের আর্থিক ও সূচিগত ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। বর্তমান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি গ্রুপ ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে, আর শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ দলের বিপুল সমর্থক গোষ্ঠী এবং কলকাতার সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে এই ভেন্যুগুলো নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক টানাপোড়েনে এখন এই পুরো সূচিই অনিশ্চয়তার মুখে।

ক্রিকেট বোদ্ধারা মনে করছেন, বিসিসিআই এবং বিসিবির এই লড়াই দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করছে। পিসিবির এই আগ বাড়িয়ে দেওয়া প্রস্তাব আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করতে পারে। ভারত পাকিস্তান সম্পর্কের বৈরিতা আর তার মাঝে বাংলাদেশের এই নতুন অবস্থান বিশ্ব ক্রিকেটকে এক ত্রিভুজ সংকটে ফেলে দিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কি পারবে ভারতকে রাজি করিয়ে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে নিতে নাকি বাংলাদেশ তাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনবে, এই প্রশ্নের উত্তর জানতে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল সদর দপ্তরের দিকে।

মোস্তাফিজকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া এবং ভারতে উগ্রবাদীদের চাপের কারণে বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েছে। এর ফলে কলকাতা ও মুম্বাইয়ের ম্যাচগুলো নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিও বড় প্রভাব ফেলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews