
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা দেশব্যাপী বিক্ষোভ প্রশমিত করতে আজ সোমবার ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থীদের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজধানী তেহরানসহ হামদান, ইস্পাহান, মাশহাদ, সিস্তান–বেলুচিস্তান প্রদেশের যাহেদান, কেরমান, আরদেবিল ও আরাক শহরে একযোগে বড় আকারের সমাবেশ দেখা গেছে।
সমাবেশগুলোতে অংশ নেওয়া লাখ লাখ মানুষ ‘‘খামেনিই আমাদের নেতা’’ স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, একাধিক প্রদেশে বড় ধরনের মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, শুধু তেহরানেই দশ হাজারেরও বেশি মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তারা তেহরানের এনগালাবি স্কয়ারে (এনগালাবি স্কয়ার) আরও একটি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন, যা সাধারণত সরকার সমর্থিত কর্মসূচির জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
এই সমাবেশের মধ্যেই ইরানের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের মাঝে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে।
ইরানি নেতারা এসব সমাবেশকে বিদেশি মদদপুষ্ট অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণের ‘ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরছেন।
তাদের মতে, সাম্প্রতিক খামেনি-পন্থী এই গণজমায়েত নতুন এক বাস্তবতা সামনে এনেছে। ইরান সংকটকে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপ চিত্রায়িত করার চেষ্টা করেছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেভাবে বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করেছে, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—ইরানে বিরোধী আন্দোলনের পরিসর ও প্রভাব কি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়নি?
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাম্প্রতিক মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেছিলেন, ইরানের এবারের আন্দোলন খামেনিকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়; শান্ত মস্তিষ্কের ইরানি জনগণই শেষ পর্যন্ত যথাযথ রায় দেবেন।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন। পারসি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, যিনি অহংকারের সঙ্গে বসে পুরো বিশ্বকে বিচার করছেন, তিনি জেনে রাখুন—ফেরাউন, নমরুদ, রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজা শাহর মতো দুনিয়ার অত্যাচারী ও অহংকারীরা তাদের দাপটের চূড়ায় থাকা অবস্থাতেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল; তিনিও একইভাবে ক্ষমতাচ্যুত হবেন।
সরকারপন্থী এই বিশাল জনসমাবেশ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের কঠোর বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলমান অস্থিরতার মধ্যেও ইরানের ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার পক্ষে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন এখনও বিদ্যমান।
Leave a Reply