1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বিশ্ববাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে সোনা ও রুপা বাংলাদেশের তিন দিকে পরিত্যক্ত ৫টি বিমানঘাঁটি চালু করছে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দিকে রাজকীয় ক্ষমা রক্তের দাগ ও নির্যাতনের চেয়ার: জুলাই জাদুঘরে যাচ্ছে অভ্যুত্থানের জীবন্ত স্মারক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট পাইকগাছায় পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক; পাল্টাপাল্টি অবস্থান বাগেরহাট প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে চিতলমারীতে সংবাদ সম্মেলন বিধবা যমুনার নোয়াখালীতে অপারেশন ডেভিল হান্টে দুজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড দাকোপ প্রেসক্লাবে এমপি প্রার্থী সুনীল শুভ’র মত বিনিময়

রক্তের দাগ ও নির্যাতনের চেয়ার: জুলাই জাদুঘরে যাচ্ছে অভ্যুত্থানের জীবন্ত স্মারক

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে অমলিন রাখতে এবং স্বৈরাচারী শাসনের নির্মমতার ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের গণভবন, যা একসময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন ছিল, এখন তা সেজে উঠছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে।

আগামী ২০ জানুয়ারি এই জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এক আদেশে জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন মামলায় জব্দকৃত আলামতগুলো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জাদুঘরে প্রদর্শন করা যাবে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই অনুমতি প্রদান করেন। প্রসিকিউশন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন।

জাদুঘরে যেসব আলামত প্রদর্শিত হবে, তার মধ্যে রয়েছে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার শরীরের সেই সব পোশাক, যা এখনো বীর শহীদদের রক্তে ভেজা। এছাড়া মামলার আলামত হিসেবে জব্দকৃত নির্যাতনের চেয়ার, যা গোপন বন্দিশালায় ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতে ব্যবহৃত হতো। আন্দোলনকারীদের দমনে ব্যবহৃত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন মরণাস্ত্র ও গুলির খোসা এবং নিহতদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যক্তিগত জিনিসপত্র যা মামলার তথ্য-প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত ছিল, সেগুলোও প্রদর্শনীতে থাকছে।

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানিয়েছেন, ২০ জানুয়ারি জাদুঘরটি উদ্বোধনের দিন ধার্য করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল প্রাথমিকভাবে এক মাসের জন্য এই আলামতগুলো সেখানে রাখার অনুমতি দিয়েছেন। মামলার প্রয়োজনে বা আইনি জটিলতা এড়াতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর আলামতগুলো পুনরায় ট্রাইব্যুনালের হেফাজতে ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে এই এক মাস সাধারণ মানুষ খুব কাছ থেকে স্বৈরাচারের বর্বরতা ও আন্দোলনের বীরত্বগাথা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর জনতা গণভবনে প্রবেশ করে। সেই গণবিস্ফোরণের স্মৃতি এবং বিগত সরকারের দুঃশাসনের চিত্র ধরে রাখতেই অন্তর্বর্তী সরকার ভবনটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই একাধিকবার নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলার আলামতগুলো জাদুঘরে প্রদর্শনের মাধ্যমে একদিকে যেমন ইতিহাসের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি জনমনে আস্থা বাড়বে। মানুষ জানতে পারবে, পর্দার আড়ালে কীভাবে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছিল।

প্রসিকিউটর তামীম আরও জানান, ট্রাইব্যুনালে ইতিমধ্যে যেসব মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বা বর্তমানে চলমান রয়েছে, সেই সব মামলার জব্দ তালিকাভুক্ত উপাদানগুলোই মূলত এখানে স্থান পাবে। এটি কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, বরং ন্যায়বিচারের দাবির এক জীবন্ত দস্তাবেজ।

আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে গণভবনের আঙিনায় পা রাখা প্রতিটি মানুষ সাক্ষী হবেন এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের। শহীদদের রক্তমাখা সেই সব পোশাক আর নির্যাতনের জঘন্য স্মারকগুলো চিৎকার করে বলবে স্বাধীনতার দ্বিতীয় বারের দাম কত ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর কেবল একটি ভবন নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের এক অবিনশ্বর প্রতীক হয়ে থাকবে। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেই শপথ নিয়েই প্রস্তুত হচ্ছে এই স্মৃতি জাদুঘর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট