1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
নিজেদের অবস্থানে অনড় বিসিবি, দ্রুত সিদ্ধান্তের আশ্বাস আইসিসি প্রতিনিধির আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ তারেক রহমানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ ইরানে অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী: খামেনি হাসনাত আব্দুল্লাহর আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল অন্তর্বর্তী সরকারের ৫০০ দিন, ঐতিহাসিক অর্জন বনাম অমীমাংসিত সংকটের ময়নাতদন্ত দুই দিনে সাড়ে ৪ হাজার মামলা করেছে ডিএমপি দেশকে এগিয়ে নিতে ‘হ্যাঁ’তে সিল দিন, গণভোটের প্রচারে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা পাইকগাছায় বাসস চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীনের উদ্যোগে তিন সহস্রাধিক দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ চাঁদাবাজি নির্মূল করে এ অঞ্চলকে শান্তির জনপদে পরিনত করবো- জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী

অন্তর্বর্তী সরকারের ৫০০ দিন, ঐতিহাসিক অর্জন বনাম অমীমাংসিত সংকটের ময়নাতদন্ত

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক:: ছাত্র জনতার এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

শনিবার দাঁড়িয়ে যখন আমরা এই সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করছি, তখন দেখা যাচ্ছে একদিকে যেমন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো যুগান্তকারী সাফল্য রয়েছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমনে প্রকট ব্যর্থতার কালো ছায়াও দীর্ঘ হচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রস্তাবিত জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট এই সরকারের চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

নির্বাচন ও গণভোট ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট। এই সনদে বর্ণিত সাংবিধানিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাবগুলো জনগণের রায় পেলে তা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হবে।

এই দ্বিমুখী উদ্যোগটি অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ঐতিহাসিক মিশন। এটি সফল হলে বাংলাদেশে ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের পথ রুদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচনের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা প্রশ্ন থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিচার বিভাগের মুক্তি এই সরকারের সবচেয়ে বড় এবং স্থায়ী সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের নগ্ন হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা। ৫৪ বছরের ইতিহাসে যা কোনো সরকার করতে পারেনি, অন্তর্বর্তী সরকার তা করে দেখিয়েছে। বিচার বিভাগকে নির্বাহীদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির পূর্ণ ক্ষমতা এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে, যা আগে আইন মন্ত্রণালয় বা সচিবালয়ের হাতে ছিল। এই সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে আইনের শাসনের একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে।

খাদের কিনারা থেকে ফেরা হাসিনা সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের লুটপাটে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করা এই সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য। এস আলম গ্রুপ একাই ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে এবং ১১টি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকিতে ব্যাংকগুলো এখন স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। তবে সালমান এফ রহমান বা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মতো শীর্ষ ঋণখেলাপিদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ খেলাপি ঋণ ট্রাইব্যুনাল গঠন না করায় সরকারের মাঝে এক ধরণের সিদ্ধান্তহীনতা ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।

ব্যর্থতার নাম আইনশৃঙ্খলা ও মব সন্ত্রাস সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে গত ১৬ মাসের ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপরিকল্পিতভাবে মব জাস্টিস বা মব সন্ত্রাস চালানো হয়েছে। এর আড়ালে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল চেতনাকে টার্গেট করছে।

হাসিনা সরকার পুলিশকে যেভাবে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করেছিল, সেই গ্লানি থেকে পুলিশ এখনো বের হতে পারেনি। ফলে বাহিনীটি এখন অধিকাংশ সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশনকে আমলাতান্ত্রিক কবলে ফেলে ক্ষমতাহীন করার অপচেষ্টা সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

দুর্নীতি দমনে অনীহা ও উগ্রবাদের অনুপ্রবেশ সরকার একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করলেও দুর্নীতি দমনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বাংলাদেশ আবারও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জনমনে ধারণা জন্মেছে যে, সরকার সাংবিধানিক তত্ত্বে যতটা উৎসাহী, মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি দমনে ততটাই অনীহাপ্রবণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো রাষ্ট্রযন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর ওপর হামলাগুলো প্রমাণ করে যে, এই অপশক্তিগুলো কতটা বেপরোয়া। আসন্ন নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারকে অকার্যকর করার ক্ষমতা এই গোষ্ঠীগুলো অর্জন করে ফেলছে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই ৫৪৫ দিনের যাত্রা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের একটি কম্পাস। প্রাতিষ্ঠানিক দৃঢ়তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে না পারলে গণঅভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নটি ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে। উগ্রবাদী শক্তির উত্থান এবং মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকার এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। জাতির সামনে এখন একটাই সতর্কবার্তা, সাধু সাবধান! কারণ, এই সন্ধিক্ষণে সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট