শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বাগেরহাটে নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন আমরা মাদককে না বলব, সন্ত্রাসকে না বলব এবং খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলব-আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এসবি প্রধানের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কাস্টমস পরিদর্শন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ ইতালিতে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিকল: ৭ ঘণ্টা ধরে বিমানে আটকা ২৬০ যাত্রী ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন,ডাকছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন একদিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত ‘গণমাধ্যম এখনো স্বাধীন নয়’ বাগেরহাটে ডা. শফিকুর রহমান চিতলমারীতে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠান

ইরানের ২৪ লাখের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে আমেরিকার ব্যয় ৪৯ কোটি

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছ। যুদ্ধের মাত্র তিন দিন পার হতেই এটি একটি ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে। ইরানের ছোড়া একের পর এক ড্রোন হামলা বাহরাইন থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রচণ্ড চাপের মুখে ফেলেছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের সাশ্রয়ী কিন্তু কার্যকর ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন এবং অন্যান্য স্বল্পপাল্লার ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করছে। একেকটি ইরানি ড্রোনের খরচ মাত্র ২০,০০০ ডলার (প্রায় ২৪ লাখ টাকা)। বিপরীতে, এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে আমেরিকা ও তার মিত্ররা ব্যবহার করছে ‘প্যাট্রিয়ট’ এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম। প্যাট্রিয়ট সিস্টেম থেকে ছোড়া একেকটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের দাম প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৯ কোটি টাকা)।

এই বিশাল অর্থনৈতিক ব্যবধান পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনাবিদদের ভাবিয়ে তুলেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্যাট্রিয়ট মিসাইলগুলো ইরানের ড্রোন বা ব্যালেস্টিক মিসাইল রুখতে ৯০ শতাংশের বেশি সফল হলেও, ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন মারতে ৪ মিলিয়ন ডলার খরচ করা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও আমেরিকা—উভয় পক্ষই আগামী কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্রের সংকটে পড়তে পারে। ইরানের কৌশল হলো বিপুল পরিমাণ সস্তা ড্রোন ছুড়ে প্রতিপক্ষের মূল্যবান মিসাইল শেষ করে দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে তোলা।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বর্তমান গতিতে হামলা চলতে থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মজুত থাকা আমেরিকার ‘পিএসি-৩’ ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলো খুব দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের হামলায় তারা বিপুল সংখ্যক ইরানি ড্রোন ও মিসাইল ধ্বংস করেছে। তবে ক্রমাগত এই হামলা দুবাই এবং আবুধাবির মতো শহরগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ড্রোন হামলার ফলে সৌদি আরবের তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো অঙ্কিত পান্ডার মতে, যুদ্ধের প্রথম ৬০ ঘণ্টার পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। যে পক্ষ বেশি সময় ধরে তাদের অস্ত্রের জোগান এবং রাজনৈতিক ধৈর্য ধরে রাখতে পারবে, শেষ পর্যন্ত তারাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকা ও তার মিত্রদের এখন উচিত ড্রোনের মোকাবিলায় লেজার বা অটোমেটিক কামানের মতো আরও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা, যাতে প্যাট্রিয়টের মতো দামি সিস্টেমগুলো বড় ধরনের হুমকির জন্য বাঁচিয়ে রাখা যায়।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews