
ডেস্ক:: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই মহোৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের প্রশাসনিক ও শিল্পাঞ্চলে এক নজিরবিহীন ছুটির সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নির্বাচনের আগের দিন, অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের এক দীর্ঘ অবসর পেতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
চার দিনের হিসাব বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই নতুন ছুটির ঘোষণা দেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ছুটির ক্যালেন্ডারটি এমনভাবে দাঁড়িয়েছে যে ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার নির্বাচনের আগের দিন বিশেষ সাধারণ ছুটি থাকবে। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নির্বাচনের দিন পূর্বনির্ধারিত সাধারণ ছুটি এবং পরবর্তী দুই দিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
এই বিন্যাসের ফলে যারা রাজধানী বা প্রধান শহরগুলোতে কর্মব্যস্ত থাকেন, তারা অনায়াসেই নিজেদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ভোটারদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং নির্বাচনের আগের দিন প্রস্তুতিমূলক কাজের সুবিধার্থেই এই ১১ ফেব্রুয়ারির ছুটিটি যুক্ত করা হয়েছে।
তিন দিনের ছুটি কেবল সরকারি অফিস নয়, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি শিল্পাঞ্চলগুলোর জন্যও সরকার বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। প্রেস সচিব জানান শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সেখানে সাধারণ ছুটি থাকবে। এর ফলে শিল্প খাতের শ্রমিকরা ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি, এই টানা তিন দিন ছুটি উপভোগ করবেন।
যেহেতু অনেক শ্রমিককে দূর দূরান্তের জেলাগুলোতে গিয়ে ভোট দিতে হয়, তাই তাদের যাতায়াতের সময় বিবেচনায় নিয়ে এই অতিরিক্ত একদিনের ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের পোশাক খাতসহ অন্যান্য বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও শ্রমিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বা গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। দ্বিমুখী এই ঐতিহাসিক ভোটাভুটিতে যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের মতে যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে এবং শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ভোটারদের শান্তিতে কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে এই বর্ধিত ছুটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যারা পরিবার পরিজন নিয়ে দূরে থাকেন, তাদের জন্য চার দিনের এই সুযোগ একটি পারিবারিক উৎসবের আমেজ তৈরি করবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিবের বক্তব্য শফিকুল আলম বলেন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনটি আগে থেকেই ছুটির তালিকায় ছিল। তবে উপদেষ্টা পরিষদ মনে করেছে জনগণের অংশগ্রহণে কোনো বাধা রাখা উচিত নয়। তাই ১১ ফেব্রুয়ারিকে সাধারণ ছুটি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলে ছুটির বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
উৎসব ও শঙ্কা টানা চার দিনের ছুটির খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় চুরি বা ডাকাতির মতো ঘটনা এড়াতে এবং নির্বাচনী সহিংসতা রোধে পুলিশ ও র্যাবকে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোট মানেই উৎসব, আর সেই উৎসবকে পূর্ণতা দিতে সরকারের এই চার দিনের ছুটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, বরং গণতন্ত্রের উৎসবে প্রতিটি নাগরিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। এখন দেখার বিষয় এই দীর্ঘ ছুটির সুযোগ নিয়ে ভোটাররা কতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন।
Leave a Reply