1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পর্যটন খাতে ‘মহাসংকট’, বিশ্বজুড়ে আটকা হাজারো পর্যটক ১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্রে ঈদের ছুটি ৫ দিন সামাজিক সুরক্ষায় নতুন দিগন্ত: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুগে বাংলাদেশ পাইকগাছায় সার ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযান; ৪ জনকে জরিমানা বেনাপোল সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক ও পণ্য আটক দাকোপে উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত দাকোপে জাতীয় দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন খুলনায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন খুলনায় পাঁচ হাজার ২৭৫ উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পর্যটন খাতে ‘মহাসংকট’, বিশ্বজুড়ে আটকা হাজারো পর্যটক

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ২০২৬ সালটি বৈশ্বিক পর্যটন খাতের জন্য একটি সম্ভাবনার বছর হওয়ার কথা থাকলেও, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত সেই স্বপ্নকে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কাতার, সৌদি আরব এবং কুয়েতের মতো পর্যটননির্ভর দেশগুলো এখন এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি। কেবল মধ্যপ্রাচ্যই নয়, এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা, মরক্কো, কেনিয়া এবং নাইজেরিয়ার পর্যটন প্রবৃদ্ধিতেও বড় ধরনের ধস নামিয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আকাশপথ বন্ধ হওয়া এবং ফ্লাইট বাতিলের ফলে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন। এক সময়ের ব্যস্ততম পর্যটন কেন্দ্র দুবাই, দোহা এবং রিয়াদ এখন প্রায় জনশূন্য।

সংঘাত শুরুর আগে ধারণা করা হয়েছিল যে, ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই পূর্বাভাস বদলে গিয়ে এখন ১১ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত পতনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রায় ২৩ থেকে ৩৮ মিলিয়ন পর্যটক কম আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কেবল মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাত থেকে ৩৪ বিলিয়ন থেকে ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বার্ষিক পর্যটন আয়, যা প্রায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলার ছিল, তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
ফ্লাইট বিপর্যয় ও আকাশপথের গোলকধাঁধা

গত ৭ মার্চ ২০২৬ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক এবং জর্ডানের আকাশপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এমিরেটস, ইতিহাদ এবং কাতার এয়ারওয়েজের মতো জায়ান্ট এয়ারলাইনসগুলো তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে।

৭ মার্চ রাত ১১:৫৯ মিনিটের পর থেকে তাদের নিয়মিত যাত্রীবাহী সেবা স্থগিত করেছে। আবুধাবিভিত্তিক এই সংস্থাটি ৫ মার্চ পর্যন্ত সব টিকেট বিক্রি বন্ধ রেখেছিল এবং বর্তমানে কেবল বিশেষ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে মালবাহী বিমান পরিচালনা করছে। আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় কাতার এয়ারওয়েজ তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করেছে।

এই সংকটের ফলে আন্তর্জাতিক বিমানগুলো এখন দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল পথে চলাচল করছে। আফগানিস্তান, ককেশাস অঞ্চল বা মিশরের ওপর দিয়ে ঘুরে যাওয়ার কারণে জ্বালানি খরচ এবং টিকেটের দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে। লুফথানসার মতো ইউরোপীয় এয়ারলাইনসগুলোও তাদের দুবাই, তেল আবিব এবং তেহরানগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে।

আকাশপথের পাশাপাশি সমুদ্রপথেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বন্দরগুলো এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেক ক্রুজ জাহাজ (বিলাসবহুল জাহাজ) বন্দরে আটকা পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, টিইউআই (TUI) ক্রুজের ‘মেইন শিফ ৫’ দোহায় এবং ‘এমএসসি ইউরিবিয়া’ দুবাইয়ে নোঙর ফেলে অলস সময় পার করছে। পর্যটকদের বিমানে করে বাড়ি ফেরাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে ক্রুজ কোম্পানিগুলো।

মধ্যপ্রাচ্য অনিরাপদ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে পর্যটকরা এখন বিকল্প গন্তব্য খুঁজছেন। বার্লিনে অনুষ্ঠিত আইটিবি (ITB Berlin 2026) আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় মধ্যপ্রাচ্যের স্টলগুলোর অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে আফ্রিকার কিছু দেশ। কেনিয়া, মিশর, দক্ষিণ আফ্রিকা, মরক্কো, সেশেলস এবং মরিশাসের মতো দেশগুলোতে পর্যটকদের চাপ বাড়ছে। তবে নাইজেরিয়ার মতো পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে উচ্চমানের অবকাঠামোর অভাবে তারা এই বাড়তি পর্যটক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

২০১৯ সাল থেকে সৌদি আরব তাদের পর্যটন খাতকে বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করতে যে ব্যাপক বিনিয়োগ এবং সংস্কার শুরু করেছিল, এই যুদ্ধ তা কয়েক বছর পিছিয়ে দিয়েছে। রিয়াদ ও মক্কার মতো শহরগুলো এখন নিরাপত্তা শঙ্কায় পর্যটকহীন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পরও পর্যটকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (GCC) ভুক্ত দেশগুলো যেহেতু দীর্ঘ পাল্লার ফ্লাইটের প্রধান ট্রানজিট হাব, তাই এর প্রভাব ইউরোপ থেকে পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে।

পর্যটন খাতের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কেবল শান্তি স্থাপনই যথেষ্ট নয়, বরং এই অঞ্চলটি যে পুনরায় নিরাপদ ও স্বাগত জানানোর মতো স্থানে পরিণত হয়েছে, তা বিশ্ববাসীকে বিশ্বাস করানোই হবে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট বিশ্ব পর্যটন ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা এখন মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে এই যুদ্ধ কত দ্রুত শেষ হয় এবং আকাশপথ কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট