
আন্তর্জাতিক :: ডেস্কইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান অঞ্চলটিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এবার ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্যালিফোর্নিয়ায় ড্রোন হামলার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই)।
বুধবার (১১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এফবিআই-এর নথি পর্যালোচনা করে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই ইরান আমেরিকার পশ্চিম উপকূল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রের কোনো একটি অজ্ঞাত জাহাজ থেকে ড্রোনগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। হামলার নির্দিষ্ট সময় বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, মার্কিন ভূখণ্ডে ইরানের এই ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’ পরিকল্পনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মার্কিন প্রশাসন।
এই সতর্কবার্তাটি এমন এক সময়ে এল যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে এবং ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ড্রোন হামলার মাধ্যমে এর পাল্টা জবাব দিচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেস এফবিআই অফিস এবং হোয়াইট হাউস থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দারা মেক্সিকান ড্রাগ কার্টেলগুলোর ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়েও উদ্বিগ্ন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের একটি অসমর্থিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মেক্সিকান কার্টেল নেতারা মেক্সিকো সীমান্তে মার্কিন বাহিনীর ওপর বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের অফিস এবং লস অ্যাঞ্জেলেস শেরিফ বিভাগ উপাসনালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
অন্যদিকে, তিন শর্তে যুদ্ধ বন্ধে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি তেহরানের অনড় অবস্থানের কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে তিনটি প্রধান শর্তের কথা উল্লেখ করেন।
প্রথমত, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের বৈধ ও ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এবং তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো প্রকার আগ্রাসন চালানো হবে না এই মর্মে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধ শুরুর জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছেন এবং একইসঙ্গে অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে ইরানের অঙ্গীকারের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন।
Leave a Reply