
চিতলমারী প্রতিনিধি:: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রঞ্জন হালদারের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে গিয়ে সরকারি মোটরসাইকেলটি পুড়ে অঙ্গার হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটলেও তিনি ২১ এপ্রিল থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিষয়টি এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই রঞ্জন হালদার চিতলমারী উপজেলায় ভারপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার নামে বরাদ্দকৃত (ঢাকা মোট্রো-হ-৪২-৩৫৮০) মোটরসাইকেলটি সরকারি কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার শুরু করেন। তাঁর স্ত্রী শিউলী রানী বিশ্বাস ৭৩ নং হিজলা চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। স্ত্রীর চাকুরীর সুবিদার্থে তিনি চিতলমারী উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টার ও উপজেলা সদর বাদ দিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা মোল্লাহাট সীমন্তবর্তী গোড়ানালুয়া এলাকার পল্লীতে বাসা ভাড়া নেন। সরকারি ওই মোটরসাইকেলে করে তিনি ও তাঁর স্ত্রী যাতায়াত করতেন। গত ১৯ এপ্রিল রাতে ভাড়াকৃত ওই বাড়িতে থাকা সরকারি মোটরসাইকেলটিসহ ৩টি মোটরসাইকেল পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।
এ ব্যাপরে চিতলমারী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা রঞ্জন হালদার জানান, যেহেতু সমাজসেবা কর্মকর্তার নামে বরাদ্দ সেহেতু ব্যক্তিগত ও সরকারি উভয় কাজে মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা যাবে। তিনি ঘটনাটি উর্ধতন কর্মকতাদের জানিয়েছেন এবং চিতলমারী থানায় ১০৯৭ নং একটি সাধারন ডাইরি করেছেন।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘ঘটনার পর ওই কর্মকর্তা আমাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছিল। উপজেলা পরিষদে আবাসিক ভবনের জন্য তিনি কোন আবেদন করেছে কিনা এটা আমি এই মুহুর্তে বলতে পারব না।’
বাগেরহাট সমাজসেবার উপ পরিচালক সন্তোষ কুমার নাগ বলেন, ‘সরকারি কোন মোটরসাইকেল বা গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। রঞ্জন হালদার পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে।’
তবে খুলনা বিভাগীয় পরিচালক অনিন্দিতা রায় বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত নই। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উপ পরিচালকের সাথে কথা বলেন।’
Leave a Reply