1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন

পুলিশের ১৭ শীর্ষ কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে অবসরে পাঠালো সরকার

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক:: বাংলাদেশ পুলিশে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এক বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের উচ্চপদস্থ ১৭ জন কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৬ জনই উপমহাপরিদর্শক বা ডিআইজি এবং একজন অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং জনমুখী পুলিশিং নিশ্চিত করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এই পদক্ষেপকে তারই অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী এই কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। উক্ত আইনে উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সরকার যদি মনে করে যে তাকে জনস্বার্থে অবসরে দেওয়া প্রয়োজন, তবে সরকার কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে অবসর প্রদান করতে পারে। তবে প্রজ্ঞাপনে এটিও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, অবসরে যাওয়া এই কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য সব ধরনের অবসরজনিত সুবিধাদি অর্থাৎ পেনশন ও গ্র্যাচুইটি লাভ করবেন।

রবিবারের আদেশে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও দপ্তরে কর্মরত প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সিআইডি বা অপরাধ তদন্ত বিভাগের ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ, ডিআইজি মো. রফিকুল হাসান গনি এবং ডিআইজি রখফার সুলতানা খানমকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর বা এনএসআই এর পরিচালক মো. হারুন অর রশীদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী এবং নৌ পুলিশের ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান। পুলিশ সদর দপ্তর ও স্টাফ কলেজের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিআইজি সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর, ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান এবং ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন।

রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. গোলাম রউফ খান, নোয়াখালী পিটিসির কমান্ড্যান্ট মো. হায়দার আলী খান, খুলনা পিটিসির কমান্ড্যান্ট মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, রংপুর পিটিসির কমান্ড্যান্ট শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মো. রুহুল আমিনও এই তালিকায় রয়েছেন।

এটি পুলিশের উচ্চস্তরে একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা। এর আগে গত ২২ এপ্রিল সরকার আরও ১৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে একইভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে মোট ৩০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর ঘটনা পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে বিরল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ করে দিতেই সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন একই পদে বা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন অথবা যাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ ছিল, তাদের ক্ষেত্রেই এই আইনের প্রয়োগ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারি চাকরিতে জনস্বার্থে এই শব্দটির প্রয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। সাধারণত কোনো কর্মকর্তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কিংবা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সাথে কর্মপদ্ধতির অসামঞ্জস্য তৈরি হলে এই ধারার প্রয়োগ করা হয়। আজকের আদেশে মাঠ পর্যায়ের প্রভাবশালী কমিশনার থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধানদের নাম থাকায় পুলিশ বাহিনীর চেইন অফ কমান্ডে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রগুলো বলছে, এই পরিবর্তনের ফলে শূন্য হওয়া পদগুলোতে পদোন্নতিযোগ্য যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। এতে বাহিনীর মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির পথ সুগম হবে।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের সবাই পেশাদার বিসিএস ক্যাডার হওয়ায় তারা আইনি প্রক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রাখলেও, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ অনুযায়ী সরকারের এই বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে আইনি লড়াই সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে যেহেতু অবসরজনিত সব সুবিধা প্রাপ্য হবেন বলে উল্লেখ আছে, তাই আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি এখানে মুখ্য নয়। এটি মূলত একটি প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযান হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশ বাহিনীকে আরও নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব করার দাবি জানানো হচ্ছিল। ১৬ ডিআইজিসহ ১৭ কর্মকর্তার এই গণ অবসরের সিদ্ধান্ত সেই সংস্কার প্রক্রিয়ারই একটি বহিঃপ্রকাশ কি না, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা কৌতূহল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের পর এখন পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নতুন কারা স্থলাভিষিক্ত হন, সেটিই দেখার বিষয়।

বিকেলে এই প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দপ্তরে এবং পুলিশ সদর দপ্তরে এক থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অনেক কর্মকর্তা তাদের ব্যক্তিগত মালামাল গুছিয়ে দপ্তর ত্যাগ করতে শুরু করেছেন। সরকার জানিয়েছে, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও কাজের গতি বাড়াতে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও নেওয়া হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট