1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বিশ্বকাপে দল ঘোষণা আর্জেন্টিনার, স্কোয়াডে আছেন যারা বড় লিডের পথে বাংলাদেশ, শেষ দিনে রোমাঞ্চের অপেক্ষা ঢাবিতে জাতীয় কর্মশালা মঙ্গলবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলেছে-সেতুমন্ত্রী জনসেবায় নতুন দিগন্ত,উত্তর ঢাকাকে আধুনিক ও স্মার্ট নগরী গড়তে বদ্ধপরিকর ডিএনসিসি মোংলায় উপজেলা বহুপক্ষীয় মৎস্যজীবী নেটওয়ার্কের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ে তামাক বিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় মাদকের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান: গাঁজাসহ আটক ১, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড টেকনাফে বিদেশী রাইফেল গুলি ইয়াবা জব্দ করেছে কোস্টগার্ড বাগেরহাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাগেরহাট প্রতিনিধঃ

জনসেবায় নতুন দিগন্ত,উত্তর ঢাকাকে আধুনিক ও স্মার্ট নগরী গড়তে বদ্ধপরিকর ডিএনসিসি

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক:: একটি আধুনিক, বাসযোগ্য এবং স্মার্ট নগরী গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) তাদের কার্যক্রমের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমানে ডিএনসিসি এক বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছে।

বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন-এর সুদক্ষ নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের হাওয়া এখন উত্তর ঢাকার প্রতিটি অলিগলিতে দৃশ্যমান। কেবল গতানুগতিক সেবা নয়, বরং প্রযুক্তি ও আন্তরিকতার সমন্বয়ে এক নতুন ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে এই সংস্থাটি।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় ডিএনসিসি: এক নতুন অধ্যায়

যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি হলো তার স্বচ্ছতা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। নাগরিকদের প্রদত্ত করের প্রতিটি পয়সা যেন জনকল্যাণে সঠিকভাবে ব্যয় হয়, তা তদারকি করার জন্য একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা চাই একটি জবাবদিহিতামূলক নগর প্রশাসন। যেখানে নাগরিকরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকবেন এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করব না। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা সেবার মান উন্নত করছি যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পরিচ্ছন্নতার নতুন মানদণ্ড

উত্তর ঢাকার নাগরিকদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ডিএনসিসি এখন আর কেবল ডাস্টবিন থেকে ময়লা সরাতেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে তা অপসারণের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। শহরের কঠিন বর্জ্য সংগ্রহে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কার্যক্রম এখন জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এছাড়া রাতের আঁধারে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে দিনের বেলা নাগরিকদের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনেও ডিএনসিসি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য ও মশক নিধন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স

ঢাকা শহরের জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো এডিস মশা এবং ডেঙ্গু। ডিএনসিসি এই মশক নিধন কার্যক্রমকে একটি রুটিন ওয়ার্কে পরিণত করেছে। লার্ভিসাইডিং এবং ফগিং কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন বহুতল ভবনের ছাদে জমে থাকা পানি ও মশার প্রজনন ক্ষেত্র শনাক্ত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিতভাবে প্রতিটি অঞ্চলের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন: গতিময় শহর ও নিরাপদ সড়ক

একটি আধুনিক শহরের প্রাণ হলো তার উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ নিরলসভাবে রাস্তা নির্মাণ, ফুটপাত উন্নয়ন এবং ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরা, মিরপুর, গুলশান এবং বনানীর মতো এলাকাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে সড়ক সংস্কার করা হয়েছে।

পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে অবৈধ দখলমুক্ত করে ফুটপাতগুলোকে প্রশস্ত ও দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পর্যাপ্ত সড়কবাতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা রাতের ঢাকাতে নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদান করছে।

 

নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে ডিএনসিসি ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়িয়েছে। ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন নাগরিকরা ঘরে বসেই তাদের এলাকার সমস্যার কথা (যেমন: অকেজো সড়কবাতি, ময়লার স্তূপ বা ম্যানহোল খোলা থাকা) সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারছেন।

প্রতিটি অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ‘০৯৬০২২২২৩৩৩’ হটলাইনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এবং ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর প্রক্রিয়াকে করা হয়েছে কাগজবিহীন ও দ্রুততর।

রাজস্ব ও হোল্ডিং ট্যাক্স: উন্নয়নের চালিকাশক্তি

নগরীর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থায়ন। ডিএনসিসি তাদের রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য কর এখন নাগরিকরা ব্যাংকে না গিয়েও অনলাইনে পরিশোধ করতে পারছেন।

এতে একদিকে যেমন নাগরিক ভোগান্তি কমছে, অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা বাড়ছে। রাজস্ব কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে যেন কর নির্ধারণে কোনো প্রকার অনিয়ম না হয়।

আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রশাসনিক তৎপরতা

ডিএনসিসি-এর সেবাগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের (REO) ক্ষমতা ও দায়িত্ব বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের সার্বিক প্রশাসনিক তদারকি এখন অনেক বেশি গতিশীল। ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সচিবরা সরাসরি নাগরিকদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে তাদের সার্টিফিকেট প্রদান ও স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখছেন।

বাজার মনিটরিং সেল নিয়মিতভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নগর পরিকল্পনা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ঢাকা শহরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে ডিএনসিসি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফুটপাত দখল করে অবৈধ ব্যবসা বা স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ভূমি ব্যবহারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ স্থাপনা মুক্ত করতে নগর পরিকল্পনা বিভাগ নিয়মিত জরিপ পরিচালনা করছে। কমিউনিটি সেন্টারগুলোর উন্নয়ন এবং পার্ক ও খেলার মাঠ সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকদের বিনোদনের সুযোগও বাড়ানো হচ্ছে।

আগামীর ঢাকা: স্বপ্ন ও বাস্তবতা

প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন-এর নেতৃত্বে ডিএনসিসি যে গতির সাথে এগিয়ে যাচ্ছে, তা বজায় থাকলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অচিরেই একটি মডেল নগরীতে পরিণত হবে। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের সদিচ্ছা মিলে এক নতুন দিনের সূচনা হয়েছে।

একজন সাধারণ নাগরিকের ভাষায়, আগে একটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে হতো, এখন ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে অনেক কাজ সহজ হয়ে গেছে। মশা নিধন আর পরিচ্ছন্নতায় যে পরিবর্তন দেখছি, তা ধরে রাখতে পারলে আমাদের ঢাকা সত্যিই সুন্দর হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এখন কেবল একটি প্রশাসনিক সংস্থা নয়, এটি নাগরিকদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। স্বচ্ছতা, গতিশীলতা এবং প্রযুক্তিবান্ধব সেবার মাধ্যমে ডিএনসিসি প্রমাণ করছে যে, সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো কঠিন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। উত্তর ঢাকাবাসী এখন একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং আধুনিক জীবনযাত্রার স্বপ্ন দেখছে, যা বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উত্তর সিটি কর্পোরেশন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট