
ছবি: সংগৃহীত
ডেস্ক:: বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে দেওয়া ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের জন্য রাখা হয়েছে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড। অর্থাৎ ঋণ পাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস সুদ পরিশোধ করতে হবে না।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়।
সার্কুলারে জানানো হয়েছে, ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে অর্থায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। এর উদ্দেশ্য হলো বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন ও কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা দেবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে প্রাক-অর্থায়ন পাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস এ সুদ পরিশোধের প্রয়োজন হবে না। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হলে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে, স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে ঋণ দেবে, তার সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। ফলে ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস কোনো সুদ আদায় করা যাবে না। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর থেকে সুদ আদায় শুরু হবে। এ ক্ষেত্রেও প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদ পরিশোধের নিয়ম রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে স্কিমটির তিন বছরের মেয়াদকালে যেকোনো সময় প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করা যাবে। অর্থাৎ সুবিধা নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলো স্কিমের মেয়াদের মধ্যে যেকোনো সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রাক-অর্থায়নের আবেদন করতে পারবে। তবে আবেদন করার সময় তহবিলে অর্থের প্রাপ্যতা থাকতে হবে।
স্কিমের আওতায় বরাদ্দ করা অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঋণ বিতরণ, ব্যবহার ও আদায়ের বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে যথাযথ তদারকি করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাক-অর্থায়নের অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের। একই সঙ্গে ঋণের ব্যবহার ও আদায়ের অগ্রগতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সুদ পরিশোধের হিসাব নিষ্পত্তি করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে দেওয়া নির্দেশনা জারির সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।