1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসি কত নম্বরে? বিধ্বস্ত ইরান ও লেবাননকে বড় সহায়তার ঘোষণা চীনের ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তিতে কী আছে, দেখে নিন একনজরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি ফুল ছিটিয়ে ও বাদ্য বাজিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন চা শ্রমিকরা পাইকগাছায় ড্রেনের নোংরা পানিতে পাউবো পুকুর দূষিত; ড্রেন সংস্কারের দাবি তারাকান্দায় মউক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেনকে উপজেলা প্রশাসনের ফুলেল শুভেচ্ছা ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সৌরশক্তিকে কাজে লাগানো-নজরুল ইসলাম মঞ্জু পাইকগাছায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে লবণসহিষ্ণু ব্রি ধান-৮৭ বীজ বিতরণ

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান, উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৯২ বার পড়া হয়েছে

চিতলমারী প্রতিনিধি :: বয়সের ভারে বিধ্বস্ত দুইকক্ষের ভবনটি। এক কক্ষের উপরে খোলা আকাশ। অন্যটির চালের টিন ছিঁড়ে ঝুলে পড়েছে। এই ঝুলে পড়া টিনের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। সামান্য বৃষ্টি হলেই ফুটো টিন দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। শিক্ষাথীদের বইখাতা ভিজে যায়। এছাড়া কক্ষের দেয়ালে ধরেছে ফাটল। মাঝে মধ্যে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ব্যবহারের জন্য ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। আর এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বেতিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। অপরদিকে, শ্রেণী কক্ষ সংকটে অন্য একটি ভবনে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা একটি রুমে পার্টিশন দিয়ে দুটি শ্রেণীর পাঠদান করছে। ওই ভবনটিও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নে ওই স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৪ নং বেতিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জাতীয়করণ হয় ১৯৮৪ সালে। প্রতিষ্ঠালগ্নে দুই কক্ষবিশিষ্ট টিনের ছাউনির এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে এ ভবনের একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও একটি কক্ষ বিদ্যালয়ের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের অনেক জায়গায় দেয়ালে ফাটল ধরেছে। খসে পড়ছে পলেস্তারা। টিনের ছাউনি ছিঁড়ে ঝুলে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। এ বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।
বেতিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অনিক শেখ ও নুসরাত জাহান জানায়, ওই কক্ষে ক্লাস করতে তাদের ভয় লাগে। তাছাড়া সামান্য বিষ্টি হলেই পানি পড়ে বইখাতা ভিজে যায়।
মামুন ফরাজী ও সরোয়ার ফরাজী নামের দুই অভিভাবক বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ে আমাদের সন্তান পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ের ভবন দুটি এমন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকি। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও কোন সুব্যবস্থা হচ্ছে না।’
বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মহসীন কাজী জানান, একদিকে শ্রেণী কক্ষের স্বল্পতার জন্য শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হয়। যার জন্য পাঠদান ব্যাহত হয়। দুইটি ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।


বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক কবিতা রাণী মন্ডল বলেন, ‘আমার স্কুলে ১২২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই ভবন দুটিতে শিক্ষকরা পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন। এটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কারো কাম্য নয়। এ ছাড়া এখানে অনুমোদিত শিক্ষকের পোস্ট ৫ টি। কর্মরত আছেন ৩ জন। তার মধ্যে একজন ডেপুটিশনে এবং একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে তারা শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন।’
চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা (রহমতপুর ক্লাস্টার) মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়ের ভবন দুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা জরুরী ভিত্তিতে টিনশেড ঘরের জন্য দুইবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট