
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিক ও মানবাধিকার কর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নোবেল কমিটি ২০২৫ সালের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
পুরস্কার হিসেবে তিনি ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনর (প্রায় ১.১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), একটি ডিপ্লোমা এবং একটি পদক পাবেন। নোবেলের ছয়টি বিভাগের মধ্যে শান্তি পুরস্কার সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে।
নোবেল পুরস্কার সাধারণত নির্দিষ্ট ক্রমে ঘোষণা করা হয়—চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতি।
বিবিসি জানিয়েছে, চলতি বছর নোবেল পুরস্কারের জন্য মোট ৩৩৮টি মনোনয়ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২৪৪ জন ব্যক্তি এবং ৯৪টি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান মনোনীত ছিল।
নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিচল ও সাহসী ভূমিকা এবং স্বৈরশাসন থেকে ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “গণতন্ত্রের জন্য অবিচল সংগ্রাম ও অহিংস প্রতিরোধের মাধ্যমে মারিয়া কোরিনা মাচাদো শুধু ভেনেজুয়েলাতেই নয়, বরং সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।”
এর আগে, ২০২৪ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছিল জাপানের অ্যান্টি-নিউক্লিয়ার সংগঠন ‘নিহন হিদানকিয়ো’, যা হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরমাণু বোমা হামলার বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের একটি তৃণমূল আন্দোলন।
২০২৩ সালে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন ইরানের নার্গিস মোহাম্মাদি, ইরানি নারীদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মানবাধিকার ও স্বাধীনতার প্রচারের স্বীকৃতিস্বরূপ।
২০২২ সালে শান্তিতে নোবেল পান বেলারুশের মানবাধিকার আইনজীবী আলেস বিলিয়াতস্কি, রুশ মানবাধিকার সংস্থা মেমোরিয়াল এবং ইউক্রেনীয় সংস্থা সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ।
২০২১ সালে পুরস্কার পেয়েছিলেন ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাতভ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য তাদের সাহসী লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ।
এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তিনবার শান্তিতে নোবেল পেয়েছে রেড ক্রস (১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে)। এছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর দুইবার (১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে) এ পুরস্কার পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে শান্তিতে নোবেল পান পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই, যিনি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে কনিষ্ঠ নোবেলজয়ী। অপরদিকে, ১৯৯৫ সালে ৮৬ বছর বয়সে পুরস্কার পাওয়া জোসেফ রোটব্লাট এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রবীণ শান্তিতে নোবেলজয়ী।
Leave a Reply