1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
আয়াতুল্লাহ খামেনির জীবনের শেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করল ইরান স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য চরিত্র জিয়াউর রহমান-প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু রাষ্ট্র ও সরকার চেষ্টা করছে অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে-বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোংলা বন্দরে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে স্বাধীনতার উদযাপন স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত মোংলায় কোস্টগার্ডের যুদ্ধজাহাজ “কামরুজ্জামান”ঘুরে দেখলেন দর্শনার্থীরা

সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী বনবিবি পূজা অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

পাইকগাছা(খুলনা)প্রতিনিধি:: সুন্দরবন ও এর পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী বনবিবি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পহেলা মাঘ উপলক্ষে খুলনার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনিসহ বিভিন্ন এলাকায় এই লোকজ ধর্মীয় উৎসব পালিত হয়।

বনবিবি সুন্দরবন অঞ্চলের মৎস্যজীবী, বাওয়ালি, মৌয়াল ও কাঠুরিয়া জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন এক লৌকিক দেবী। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, বাঘের আক্রমণসহ বনাঞ্চলের নানা বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় তাঁরা বনবিবির পূজা করে থাকেন। বনবিবি বনদেবী, বনদুর্গা, ব্যাঘ্রদেবী কিংবা বণচণ্ডী নামেও পরিচিত।

লোককথা অনুসারে, বনবিবি অরণ্যের রক্ষাকর্ত্রী দেবী। বিশ্বাস করা হয়, তিনি কখনও মুরগি আবার কখনও বাঘের রূপ ধারণ করেন। ভক্তবৎসলা এই দেবীর কারও প্রতি আক্রোশ নেই বলেই প্রচলিত ধারণা রয়েছে। সুন্দরবনের বাঘ, ভূত-প্রেতসহ সব ধরনের অপশক্তির উপর তাঁর কর্তৃত্ব রয়েছে—এমন বিশ্বাস থেকেই বনজীবী মানুষ তাঁকে রক্ষয়িত্রী হিসেবে পূজা করেন।

প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম দিনে বনবিবির বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বনবিবি পূজায় ব্রাহ্মণ পুরোহিতের প্রয়োজন হয় না। সাধারণত স্থানীয় অ-ব্রাহ্মণ হিন্দু কিংবা মুসলমান ফকিররা পূজা পরিচালনা করেন, যা এই পূজার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই বাঘ ও অন্যান্য হিংস্র প্রাণী থেকে সুরক্ষা পেতে এই লৌকিক দেবীর আরাধনায় অংশ নেন।

পূজার জন্য বনের ধারে কিংবা লোকালয়ে ছোট ছোট থান বা বেদী তৈরি করা হয়। অনেক জায়গায় বনের ভেতরেও বনবিবির স্থায়ী মন্দির রয়েছে। পূজায় সাধারণত মাটির তৈরি বনবিবি, তাঁর ভাই শাহ জঙ্গালী ও শিশু দুখের মূর্তি স্থাপন করা হয়। নৈবেদ্য হিসেবে সিন্নি (চাল ও গুড়ের মিশ্রণ), ক্ষীর, বাতাসা, ফুল ও ফল নিবেদন করা হয়। এই পূজায় নিরামিষ নৈবেদ্য দেওয়ার রীতি থাকলেও কোথাও কোথাও বনবিবির নামে জীবন্ত মুরগি ছেড়ে দেওয়ার প্রচলন রয়েছে; বলির রীতি নেই।

গভীর বনে মাছ ধরা, কাঠ, গোলপাতা, মধু ও মোম সংগ্রহের আগে বনজীবী মানুষ বনবিবির উদ্দেশ্যে মানত ও প্রার্থনা করেন। তাঁদের বিশ্বাস, বনবিবির কৃপায় বনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

প্রাচীন এই লোকজ বিশ্বাস ও ঐতিহ্য আজও সুন্দরবন উপকূলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বনবিবি পূজা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং বনজীবী মানুষের নিরাপত্তা, বিশ্বাস ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট