রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
যে কারণে সৌদি প্রতিনিধিদের সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত শুনিয়েছে ইরান অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা পুনরায় চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশোধ নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি ক্রীড়াবান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই-খুলনায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী চিতলমারীতে ১১ দলের বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বেনাপোলে ১১ দলীয় জোটের গনমিছিল পাইকগাছায় মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত: অবৈধ জাল ধ্বংস ও জরিমানা দালালমুক্ত ভূমি অফিস ও গতিশীল পৌরসভা: এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, এসিল্যান্ড হাসপাতালটি এলাকার জনসাধারণের জন্য আশীর্বাদ -মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী বনবিবি পূজা অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯১ বার পড়া হয়েছে

পাইকগাছা(খুলনা)প্রতিনিধি:: সুন্দরবন ও এর পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী বনবিবি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পহেলা মাঘ উপলক্ষে খুলনার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনিসহ বিভিন্ন এলাকায় এই লোকজ ধর্মীয় উৎসব পালিত হয়।

বনবিবি সুন্দরবন অঞ্চলের মৎস্যজীবী, বাওয়ালি, মৌয়াল ও কাঠুরিয়া জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন এক লৌকিক দেবী। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, বাঘের আক্রমণসহ বনাঞ্চলের নানা বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় তাঁরা বনবিবির পূজা করে থাকেন। বনবিবি বনদেবী, বনদুর্গা, ব্যাঘ্রদেবী কিংবা বণচণ্ডী নামেও পরিচিত।

লোককথা অনুসারে, বনবিবি অরণ্যের রক্ষাকর্ত্রী দেবী। বিশ্বাস করা হয়, তিনি কখনও মুরগি আবার কখনও বাঘের রূপ ধারণ করেন। ভক্তবৎসলা এই দেবীর কারও প্রতি আক্রোশ নেই বলেই প্রচলিত ধারণা রয়েছে। সুন্দরবনের বাঘ, ভূত-প্রেতসহ সব ধরনের অপশক্তির উপর তাঁর কর্তৃত্ব রয়েছে—এমন বিশ্বাস থেকেই বনজীবী মানুষ তাঁকে রক্ষয়িত্রী হিসেবে পূজা করেন।

প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম দিনে বনবিবির বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বনবিবি পূজায় ব্রাহ্মণ পুরোহিতের প্রয়োজন হয় না। সাধারণত স্থানীয় অ-ব্রাহ্মণ হিন্দু কিংবা মুসলমান ফকিররা পূজা পরিচালনা করেন, যা এই পূজার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই বাঘ ও অন্যান্য হিংস্র প্রাণী থেকে সুরক্ষা পেতে এই লৌকিক দেবীর আরাধনায় অংশ নেন।

পূজার জন্য বনের ধারে কিংবা লোকালয়ে ছোট ছোট থান বা বেদী তৈরি করা হয়। অনেক জায়গায় বনের ভেতরেও বনবিবির স্থায়ী মন্দির রয়েছে। পূজায় সাধারণত মাটির তৈরি বনবিবি, তাঁর ভাই শাহ জঙ্গালী ও শিশু দুখের মূর্তি স্থাপন করা হয়। নৈবেদ্য হিসেবে সিন্নি (চাল ও গুড়ের মিশ্রণ), ক্ষীর, বাতাসা, ফুল ও ফল নিবেদন করা হয়। এই পূজায় নিরামিষ নৈবেদ্য দেওয়ার রীতি থাকলেও কোথাও কোথাও বনবিবির নামে জীবন্ত মুরগি ছেড়ে দেওয়ার প্রচলন রয়েছে; বলির রীতি নেই।

গভীর বনে মাছ ধরা, কাঠ, গোলপাতা, মধু ও মোম সংগ্রহের আগে বনজীবী মানুষ বনবিবির উদ্দেশ্যে মানত ও প্রার্থনা করেন। তাঁদের বিশ্বাস, বনবিবির কৃপায় বনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

প্রাচীন এই লোকজ বিশ্বাস ও ঐতিহ্য আজও সুন্দরবন উপকূলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বনবিবি পূজা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং বনজীবী মানুষের নিরাপত্তা, বিশ্বাস ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews