বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
চিতলমারীতে উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ-নজরুল ইসলাম মঞ্জু চিতলমারীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত আষাঢ়ের বৃষ্টিতে পাইকগাছায় ছাতা মেরামতের ধুম দাকোপে সুশীলনের আয়োজনে আইসিসিএপি প্রকল্পের কর্মশালা অনুষ্ঠিত ‎ চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পাইকগাছায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময় সভা নারায়ণগঞ্জে কোস্টগার্ডের অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি আবুল কালাম আজাদ

আষাঢ়ের বৃষ্টিতে পাইকগাছায় ছাতা মেরামতের ধুম

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা (খুলনা):: আষাঢ়ের টানা বৃষ্টি আর থেমে থেমে বর্ষণে উপকূলীয় জনপদ খুলনার পাইকগাছায় বেড়েছে ছাতার ব্যবহার। ঘর থেকে বের হলেই প্রয়োজন হচ্ছে একটি ছাতার। নতুন ছাতা কেনার পাশাপাশি অনেকেই পুরোনো ছাতা মেরামত করে ব্যবহার করছেন। ফলে বর্ষার এই মৌসুমে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ছাতা মেরামতের পেশায়। বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পৌর সদরের ছাতা মিস্ত্রি কামাল শেখ।

এদিকে উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় পাইকগাছায় বর্ষা মানেই অনিশ্চিত আবহাওয়া, কালো মেঘ, হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা। সেজন্য বর্ষাকালে ছাতা হয়ে ওঠে মানুষের নিত্যসঙ্গী। এই বাড়তি প্রয়োজনীয়তার কারণে যেমন নতুন ছাতার বিক্রি বাড়ছে, তেমনি কয়েকগুণ বেড়েছে পুরোনো ছাতা মেরামতের চাহিদাও। এতে কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছেন ছাতা মেরামতের সঙ্গে যুক্ত কারিগররা।

বুধবার(১ জুলাই) সরজমিন ঘুরে ও প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর ধরে ছাতা মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কামাল শেখ। বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই তার কর্মস্থলে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ ভাঙা শিক ঠিক করাতে, কেউ ছেঁড়া কাপড় সেলাই করাতে, আবার কেউ নষ্ট হাতল কিংবা স্প্রিং পরিবর্তন করতে আসছেন। অল্প খরচে পুরোনো ছাতা আবার ব্যবহার উপযোগী হয়ে যাওয়ায় নতুন ছাতা কেনার পরিবর্তে অনেকেই মেরামতের দিকেই ঝুঁকছেন।

বর্তমানে তিনি পাইকগাছা পৌর সদরের পোস্ট অফিস মোড় সংলগ্ন আশিক পেপার স্টলের পাশে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাতা মেরামতের কাজ করছেন।

কামাল শেখ বলেন, বর্ষাকালই আমাদের কাজের মূল সময়। বছরের অন্য সময় কাজ কম থাকে। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হলেই কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫টি ছাতা মেরামত করি। এতে দৈনিক প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। তিনি আরো বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছাতা মেরামত করতে আসেন মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকালে ছাতা এখন আর শুধু একটি ব্যবহার্য সামগ্রী নয়, বরং দৈনন্দিন চলাচলের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত ছাতা ব্যবহার করছেন। ফলে পুরোনো ছাতা মেরামতের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আষাঢ়ের অবিরাম বৃষ্টিধারা যেমন প্রকৃতিকে সজীব করে তোলে, তেমনি ছাতা মিস্ত্রি কামাল শেখের মতো ক্ষুদ্র পেশাজীবীদের জীবনেও নিয়ে আসে কর্মব্যস্ততা ও বাড়তি আয়ের সুযোগ। বছরের এই কয়েকটি বর্ষার মাসই তাদের জীবিকার অন্যতম প্রধান ভরসা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews