
ছবি: সংগৃহীত
ডেস্ক:: ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, বিগত ৭৬ বছরে ভারত একটি দরিদ্র দেশ থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে একটি আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র, যা আজ বৈশ্বিক অগ্রগতিতে অবদান রাখছে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধকতাসমূহের সমাধান প্রদান করছে। আমাদের এই যাত্রায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী হয়ে রয়েছে।
শনিবার আয়োজিত ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি, সদ্য-স্বাধীন হওয়া ভারতের জনগণ নিজেদের জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে; তাদের দেশটিকে একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করে এবং সকলের জন্য ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা ও মর্যাদার আদর্শের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারবদ্ধ করে। তারপর থেকে বিগত ৭৬ বছরে, ভারত একটি দরিদ্র দেশ থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে একটি আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র, যা আজ বৈশ্বিক অগ্রগতিতে অবদান রাখছে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধকতাসমূহের সমাধান প্রদান করছে।
তিনি বলেন, আমাদের এই যাত্রায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী হয়ে রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন যৌথ ত্যাগের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাসসহ আমরা একটি বিশেষ সম্পর্ক সহভাগিতা করে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, সাহিত্য, সঙ্গীত ও শিল্পকলার প্রতি আমাদের অভিন্ন ভালোবাসা আমাদের বন্ধনকে সংজ্ঞায়িত করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো ব্যক্তিত্বদের থেকে শুরু করে যাঁদের রচনা আমাদের সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে সংযুক্ত করে নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য পর্যন্ত, আমাদের দুই দেশের জনগণ এক গভীর সাংস্কৃতিক সান্নিধ্য সহভাগিতা করে।
তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে, সংযুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার দ্রুত রূপান্তরমান প্রেক্ষাপটে আমাদের পারস্পরিক আদান-প্রদান এবং যৌথ পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে, যা আমাদের সমাজ, জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরস্পরের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, একটি ভারতীয় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল পরিবহনের জন্য একটি আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন; ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ভারত ও নেপাল উভয় দেশ থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নিয়ে আসা আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এসবই এমন কিছু উদাহরণ, যা প্রমাণ করে আমরা একসঙ্গে জ্বালানি সংযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করেছি যা প্রকৃত অর্থে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আমাদের সরবরাহ শৃঙ্খল বাংলাদেশের সমৃদ্ধ তৈরি পোশাক শিল্প ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে শক্তিশালী করছে, যা পারস্পরিক সহযোগিতা ও নির্ভরশীলতার সুফলসমূহকে প্রমাণ করে। আমাদের অংশীদারিত্ব কীভাবে উভয় পক্ষের জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য সুবিধা বয়ে এনেছে, সেটার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে, এই সাফল্যসমূহ আমাদেরকে আরও দূরদর্শী ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত সহযোগিতার উপায় অনুসন্ধান করার প্রেরণা জোগায়। সেই সহযোগিতা যা সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও অংশীদারিত্বের জন্য আমাদের যৌথ আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
তিনি বলেন, বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অংশীদারিত্ব, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি দ্বারা চালিত একটি অংশীদারিত্ব এবং এমন একটি অংশীদারিত্ব যা পারস্পরিক স্বার্থ, পারস্পরিক সুবিধা ও পারস্পরিক সংবেদনশীলতার দ্বারা লালিত হয় ও টেকসইভাবে বজায় থাকে। আজ, তরুণ, দক্ষ ও উদ্ভাবনী জনগোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজ হিসেবে, ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক, একে অপরের ভবিষ্যত সমৃদ্ধির সহায়ক এবং দৃঢ় আঞ্চলিক সংহতির ভিত্তি হয়ে উঠতে সক্ষম।
তিনি বলেন, একসাথে, আমরা আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও জ্বালানি করিডোর বিনির্মাণ করতে পারি, যা আমাদের উভয় অর্থনীতির উন্নয়ন সাধন করবে। একসাথে, আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে আমাদের অঞ্চলের জ্বালানির ভবিষ্যৎ হবে পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। একসাথে, আমরা আমাদের অভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের জন্য পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ প্রতিবন্ধকতাসমূহ মোকাবিলা করার জন্য কাজ করতে পারি।
তিনি বলেন, সংক্ষেপে, অগ্রসরমান সমাজ হিসেবে, আমরা যখন একসাথে কাজ করি, তখন আমরা আমাদের ভৌগোলিক নৈকট্যকে নতুন সুযোগে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে একে অপরকে ও আমাদের অঞ্চলকে অনেক কিছু দিতে পারি।
তিনি বলেন, প্রিয় ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়বৃন্দ! আজ আমরা ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করার জন্য একত্রিত হয়েছি, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের মূল্য পুনর্ব্যক্ত করছি এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য তাদের আগামীর যাত্রায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করছি। আমরা একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছি এবং সেটা অব্যাহত রাখব। আজকে আমাদের সঙ্গে যোগদান করার জন্য আপনাদের সকলকে আবারও ধন্যবাদ।
Leave a Reply