বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৪১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
নকআউট থেকে ফাইনালের সমীকরণ, সবকিছুই যেন আর্জেন্টিনার পক্ষে! ইরানের তহবিল মুক্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালী সচল করার আভাস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এবার সুইজারল্যান্ড সফরের আমন্ত্রণ আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রী আ’লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে চিতলমারী বিএনপি’র ৪টি সংগঠনের মিছিল পাইকগাছায় ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের’ বিরুদ্ধে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে অংশীজনদের সঙ্গে ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ডায়লগ পরিবেশ রক্ষায় ‘সবুজ মোংলা সমৃদ্ধ উপকূল’ সংগঠনের কমিটি গঠন চট্টগ্রামে ভেজাল লুব অয়েল ও কাঁচামাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড পাইকগাছায় মহিলাদের মৎস্য চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

মধ্যপ্রাচ্যের দাবার ঘুঁটি: ছায়ার যুদ্ধে রাশিয়ার ‘সাইলেন্ট সাপোর্ট’ ও ইরানের কৌশল

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১২২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সেনা না পাঠিয়েও কীভাবে একটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া যায়, রাশিয়া বর্তমানে সেই কৌশলী পথে হাঁটছে। যদিও ক্রেমলিন আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করছে তারা এই সংকটে শান্তিকামী অবস্থানে রয়েছে, কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন এক ভিন্ন গল্প বলছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগটি হলো, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান এবং রাডার সিস্টেমের সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা রিয়েল টাইম ইন্টেলিজেন্স তেহরানকে সরবরাহ করছে। এই তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ সেই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বিশাল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে বা তাদের প্রতিরক্ষা বলয় ফাঁকি দিয়ে পাল্টা হামলা চালাতে এই ধরণের গোয়েন্দা তথ্য অপরিহার্য।

রাশিয়ার উচ্চ প্রযুক্তির স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সংগৃহীত এই তথ্য তেহরানকে ড্রোন বা মিসাইল হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর ফলে রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে না নামলেও তাদের সংকেত ব্যবহার করে ইরান ও তার মিত্ররা মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে।

মস্কোর এই সক্রিয়তার পাশে বেইজিংয়ের অবস্থান বেশ রহস্যময়। ওয়াশিংটন পোস্ট এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো যেভাবে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইরানকে পরোক্ষ যুদ্ধে মদদ দিচ্ছে, চীন ঠিক সেই অবস্থানে নেই। বেইজিং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। বিপরীতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের যে বৈরিতা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিশোধ হিসেবে মস্কো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যস্ত ও বিড়ম্বিত রাখতে চাইছে।

গত বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাশিয়ার অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, ইরান কি রাশিয়ার কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম চেয়েছে? পেসকভ এর জবাবে জানান, তেহরানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার কাছে এখন পর্যন্ত অস্ত্র সরবরাহের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসেনি। তবে ইরানের সঙ্গে আমাদের যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আমরা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছি।

পেসকভের এই মন্তব্য কূটনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এখন পর্যন্ত অনুরোধ আসেনি বলার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথটি খোলা রেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া এখনই অস্ত্র পাঠিয়ে তুরস্ক বা অন্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না, কিন্তু গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে তারা ইরানের হাত শক্ত রাখছে।

সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার বিষয়ে ইসরায়েল ও পশ্চিমাদের পরোক্ষ হুমকির কড়া নিন্দা জানিয়েছে মস্কো। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ ধরণের উস্কানিমূলক তৎপরতা পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাবে। এই প্রতিবাদ থেকে স্পষ্ট যে, পুতিন প্রশাসন তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সুরক্ষার প্রশ্নে আপসহীন।

রাশিয়া কেন ইরানকে সহায়তা করছে তার পেছনে কয়েকটি শক্তিশালী কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে মনোযোগ সরানো। মধ্যপ্রাচ্য যদি উত্তপ্ত থাকে তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আর্থিক মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরে এখানে নিবদ্ধ হবে যা পুতিনের জন্য বাড়তি সুবিধা। দ্বিতীয়ত, পশ্চিমা আধিপত্য খর্ব করা।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে একক আধিপত্য রয়েছে তা চ্যালেঞ্জ করার জন্য ইরানকে রাশিয়ার মতো একজন শক্তিশালী মিত্রের প্রয়োজন। তৃতীয়ত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। ইরান ইতোমধ্যেই রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন দিয়ে সহায়তা করেছে। এখন রাশিয়া গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সেই ঋণের প্রতিদান দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ কেবল দুটি দেশের সংঘাত নয়, বরং এটি একটি বড় ধরণের ছায়াযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। রাশিয়ার এই পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে যে বিশ্ব এখন আর একক মেরুতে নেই। মস্কোর সরবরাহকৃত গোয়েন্দা তথ্য তেহরানের জন্য যেমন আশীর্বাদ, ওয়াশিংটনের জন্য তা তেমনি বড় হুমকি। পেসকভের অস্ত্র না চাওয়ার দাবি আপাতত সত্য হলেও রণক্ষেত্রে রাশিয়ার অদৃশ্য উপস্থিতিকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews