
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন পাইলটের আবাসিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং অসংখ্য অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা অকেজো হয়ে গেছে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ইরান থেকে ছোড়া শত শত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং কামিকাজে ড্রোন আকাশ ছেয়ে ফেলেছে। দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন বিমানঘাঁটির ভেতরে অবস্থিত পাইলটদের ব্যারাক এবং আবাসন লক্ষ্য করে নির্ভুলভাবে এসব মিসাইল আঘাত হেনেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হামলার ফলে মার্কিন বিমান বহরের কার্যক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, এই হামলায় মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের আওতাধীন বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাখা এফ-১৬ সহ অন্যান্য উন্নত প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলো ‘পঙ্গু’ হয়ে গেছে। হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ড্রোন ও মিসাইলের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যূহটি কার্যত ভেঙে পড়ে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আজকের এই হামলাকে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহতের প্রতিশোধ হিসেবেই তেহরান এই সর্বাত্মক হামলার পথ বেছে নিয়েছে। হামলার পর ওয়াশিংটনে জরুরি বৈঠক ডেকেছে পেন্টাগন। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের এই আচরণের জন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।
এই হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply