1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মেসির জোড়া গোলে মায়ামির রুদ্ধশ্বাস জয় অবরোধ না তুললে পাকিস্তানে প্রতিনিধি দল পাঠাবে না ইরান ট্রাম্পের আলটিমেটামে পেজেশকিয়ানের চ্যালেঞ্জ, মধ্যপ্রাচ্যে কি মহাপ্রলয় আসন্ন? জ্বালানি তেল নিয়ে মিথ্যাচার করছে সরকার-রুমিন ফারহানা বিডা-বেপজাসহ ৬ সংস্থা বিলুপ্ত করে গঠিত হচ্ছে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ বাসে ৬৪ শতাংশ ও লঞ্চে দেড়গুণ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সোমবার বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী খুলনা ও বাগেরহাট হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে বিএনপি সরকার,রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংস্কার বিমুখতায় সংকটের পদধ্বনি

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি
বিশেষ প্রতিবেদন:: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় কঠিন এক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও সরকারের ভবিষ্যৎ পথচলা এখন নিষ্কণ্টক নয়। একদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের মৌলিক সংস্কারগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল অর্থনীতি এবং দেশের প্রভাবক বুদ্ধিজীবী মহলের সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্ব। সব মিলিয়ে বিএনপি সরকার যেন একযোগে তিনটি ‘ফ্রন্ট’ বা যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হওয়ার ঝুঁকি নিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যা রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। এই অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সংসদের বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্তে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বিল আকারে না তোলায় তা কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং ৭টি বাতিল করা হয়েছে।

বাতিল হওয়া বা অকার্যকর হওয়া অধ্যাদেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, গুম প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং পুলিশ সংস্কারের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর ফলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বাংলাদেশের সেই পুরোনো ‘ক্ষমতাকাঠামো’। যেখানে একটি দলের একচ্ছত্র আধিপত্য ও স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে ওঠার পথ খোলা থাকে, তা অটুট রয়ে গেল। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, কিন্তু জনগণের বড় একটি অংশ একে সংস্কারবিরোধী অবস্থান হিসেবেই দেখছে।

সরকারের নেওয়া দ্বিতীয় বড় ঝুঁকির জায়গাটি হলো আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা। জুলাই অভ্যুত্থানে অপরাধীদের বিচারের পরিবর্তে একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার এই কৌশলকে ‘ইতিহাসের প্যারাডক্স’ বলে অভিহিত করছেন অনেক বিশ্লেষক। তাঁরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে সেই আদর্শকে উপড়ে ফেলা যায় না, বরং তা আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে।

একই সঙ্গে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোটও সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। যদিও অধ্যাদেশ পাসের সময় তারা কিছুটা নমনীয় ছিল, কিন্তু এখন তারা ‘ওয়াদা ভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। জামায়াতের মতো একটি শক্তিশালী ক্যাডারভিত্তিক দল যখন বিরোধী আসনে বসে আন্দোলনের কথা বলে, তখন সরকারের জন্য তা সামলানো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।

বিএনপির জন্য তৃতীয় এবং সম্ভবত সবচেয়ে সূক্ষ্ম চ্যালেঞ্জটি তৈরি হয়েছে দেশের বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে। হাসিনার শাসনামলে যে বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী বিএনপির পক্ষে জনমত তৈরিতে সোচ্চার ছিলেন এবং গণতন্ত্রের পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁরাই এখন সরকারের কঠোর সমালোচকে পরিণত হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রে তাঁদের ক্ষোভ এখন দৃশ্যমান। সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানকে তাঁরা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মনে করছেন। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য শিক্ষিত ও জনমত তৈরি করতে সক্ষম এই গোষ্ঠীর সমর্থন হারানো দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সরকার যখন উত্তরাধিকার সূত্রে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতি ও দলীয়করণে ধ্বংস হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হাতে নিয়েছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় এলএনজি, এলপিজি ও তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে দেশে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রেমিট্যান্সের বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধাবস্থায় থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে।

এই নাজুক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা ছিল দ্রুত অর্থনৈতিক স্বস্তি। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

এবারের সংসদের বিন্যাসটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। বিএনপি বাম, লিবারেল ও সংখ্যালঘুদের ভোট টেনে ক্ষমতায় এলেও জামায়াতে ইসলামীও তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ আসন পেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। জামায়াত এখন আর কেবল একটি ধর্মীয় দল নয়, বরং তারা অর্থনৈতিক সংস্কারের বুলি আওড়িয়ে ‘মূলধারার’ দল হওয়ার চেষ্টা করছে। সংসদে তারা কৌশলী ভূমিকা পালন করছে। কখনো নোট অব ডিসেন্ট দিচ্ছে, আবার কখনো প্রস্তুতির অভাবের দোহাই দিয়ে সরকারকে ছাড় দিচ্ছে। এই দ্বিমুখী কৌশল সরকারকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে।

বিএনপি সরকার একসঙ্গে রাজনৈতিক, সংস্কার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক। এই তিনটি ফ্রন্ট উন্মুক্ত করে নিজেদের জন্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তন বা ‘সিস্টেমিক চেঞ্জ’। কিন্তু মৌলিক সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো বিলোপ করে পুরোনো ব্যবস্থার দিকে ফিরে যাওয়া জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি এখনই গুম প্রতিরোধ, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং পুলিশ সংস্কারের মতো বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা না দেখায়, তবে অচিরেই বিরোধী দলের আন্দোলন ও জন অসন্তোষের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের এই ভয়াবহ সময়ে কোনো অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নতুন সরকারের ভিত্তি দুর্বল করে দিতে পারে। সুতরাং, বিএনপি সরকারকে এখন কেবল গাণিতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নয়, বরং সর্বজনীন সংস্কারের পথে হেঁটে জনআস্থা টিকিয়ে রাখার পরীক্ষা দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট