
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:: পাইকগাছায় বিলুপ্তপ্রায় এক প্রজাতির অসুস্থ বাজপাখি উদ্ধার পরবর্তী চিকিৎসা সেবা চলমান রয়েছে। উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের হিতামপুর গ্রামের একটি বাগান থেকে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে পাখিটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিতামপুর গ্রামের শিক্ষক শহীদুজ্জামানের বাড়ির পাশের বাগানে অসুস্থ অবস্থায় পাখিটিকে দেখতে পায় কিছু শিশু। তারা পাখিটিকে নিয়ে খেলায় মেতে উঠলে বিষয়টি নজরে আসে শিক্ষক শহীদুজ্জামানের। তিনি দ্রুত এগিয়ে এসে পাখিটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে রাখেন।
পরে খবর পেয়ে পাইকগাছার পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বনবিবি’র সভাপতি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান পাখিটির দায়িত্ব নেন। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত বাজপাখিটি অত্যন্ত দুর্বল ছিল এবং উড়তে পারছিল না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম রায়ের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে পাখিটির চিকিৎসা চলছে। বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারের একটি কক্ষে পাখিটিকে রাখা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত ওষুধ প্রদানসহ মাছ খাওয়ানো হচ্ছে। চিকিৎসকরা আশাবাদী, যথাযথ পরিচর্যায় পাখিটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। সুস্থ হলে এটিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধার হওয়া পাখিটি ‘উদয়ী-মধুরাজ’ নামে পরিচিত, যা এক ধরনের বিরল শিকারী পাখি। এরা সাধারণত মৌমাছির চাক লক্ষ্য করে আক্রমণ করে এবং মধু ও চাক খেতে পছন্দ করে।
বাজপাখি মাঝারি আকারের এক ধরনের শিকারী পাখি, যা তার ক্ষিপ্রতা ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তির জন্য সুপরিচিত। স্ত্রী বাজ সাধারণত পুরুষের তুলনায় আকারে বড় হয়। এরা মাছ, ইঁদুর, কাঠবিড়ালী, খরগোশসহ ছোট আকারের প্রাণী এবং পায়রা, ঘুঘুর মতো পাখি শিকার করে জীবন ধারণ করে।
স্থানীয় সচেতন মহল এমন বিরল প্রজাতির পাখি উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সকলকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply