1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
পাকিস্তানকে হারিয়ে টেস্ট সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ দেশে স্থিতিশীলতা না থাকলে উন্নয়ন টেকসই হবে না-প্রধানমন্ত্রী ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে ভ্রাতৃত্বের নতুন দিগন্ত, প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতদের সৌজন্য সাক্ষাৎ টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলো দুই নারী পাইকগাছায় ফার্মেসিতে অভিযান: জরিমানা ৪৭ হাজার বাগেরহাটে শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত রামপাল উপ‌জেলা নাগ‌রিক ফোরা‌মের ত্রৈমা‌সিক সভা টেকনাফে অস্ত্র-গুলি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট হেলমেট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকার আন্তরিক: এমপি আবুল কালাম আজাদ

ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে ভ্রাতৃত্বের নতুন দিগন্ত, প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি সংগৃহীত

ডেস্ক:: বাংলাদেশ ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার প্রত্যয়ে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসিভুক্ত দেশসমূহের ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

উক্ত সভায় মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের শুরুতেই ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রদূতগণ বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শন এবং গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রশংসা করেন। আলোচনায় ওআইসি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অংশীদার হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন।

তারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বস্ত্রশিল্প এবং ওষুধ শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সদস্য দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দেয় যে, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও সংকটে তারা অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওআইসি প্রতিনিধিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বাংলাদেশের সাথে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কালের কথা।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশে মুসলিম দেশগুলোর সাথে ভ্রাতৃত্বের শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাঁর আমলেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের উত্তরাধিকার বহন করে বর্তমান সরকার ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী করে তুলবে।

বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওআইসি সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সামনে রোহিঙ্গা সংকটের ভয়াবহতা এবং বাংলাদেশের ওপর এর মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সসম্মানে ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। প্রধানমন্ত্রী ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং এই মানবিক সংকটের টেকসই সমাধানে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করে। উপস্থিত রাষ্ট্রদূতগণ এই বিষয়ে বাংলাদেশকে সব ধরনের কূটনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী কেবল সরকারি পর্যায়ের সম্পর্কের ওপর জোর দেননি, বরং জনগণের সাথে জনগণের সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, মুসলিম দেশগুলোর পর্যটন, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা বিনিময়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি ওআইসি দেশগুলোকে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিনের বৈঠকে ওআইসির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, ব্রুনাই, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, ওমান, পাকিস্তান, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও ইরান, ইরাক ও লিবিয়ার মিশন প্রধানগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব মো. ফরহাদুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের এই গণসাক্ষাৎ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে আন্তরিক আলোচনা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি বড় সাফল্য। বিশেষ করে বিনিয়োগ ও ওষুধের মতো সম্ভাবনাময় খাতে মুসলিম দেশগুলোর আগ্রহ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি মডারেট মুসলিম দেশ হিসেবে ওআইসির অভ্যন্তরে ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। তিনি মুসলিম বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি কেবল একটি কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করা এবং দেশের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট