1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ, আইসিসির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান বিসিবির হাতপাখাকে ৪৫ আসন ছাড়, বুধবার চূড়ান্ত ঘোষণা জামায়াতের এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে রাজকীয় গ্রেসি ম্যানশনে উঠলেন জোহরান মামদানি বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের বড় উন্নতি আকাশে ৫৪ পতাকা উড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড বাংলাদেশের, স্বীকৃতি দিলো গিনেস শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ওয়েবসাইটে প্রকাশ চাকরিপ্রার্থী নয়, তরুণদের হতে হবে চাকরি সৃষ্টিকারী-প্রধান উপদেষ্টা পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার ন্যায্যতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত অধিকাল ভাতা’ বন্ধে ক্ষুব্ধ স্থলবন্দর কর্মচারীরা :পুনরায় ভাতা চালুর দাবি, চরম অসন্তোষ

এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে রাজকীয় গ্রেসি ম্যানশনে উঠলেন জোহরান মামদানি

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: নিউইয়র্ক নগরের আবাসন সংকটের গল্পগুলো যখন সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দীর্ঘশ্বাস, তখন সেই নগরেরই নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এক নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তার নতুন জীবন শুরু করলেন। কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার এক কক্ষের বা ১ বিএইচকে জীর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে তিনি এখন ম্যানহাটানের ঐতিহাসিক ও রাজকীয় মেয়রের বাসভবন ‘গ্রেসি ম্যানশন’ এর বাসিন্দা।

সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রী রমা দুওয়াজিকে নিয়ে এই নদী তীরবর্তী অট্টালিকায় পা রেখেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই নেতা। এই স্থানান্তর কেবল একজন ব্যক্তির ঘরবদল নয়, বরং এটি নিউইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত এক নেতার জীবনযাত্রার এক বিশাল বৈপরীত্যের প্রতিচ্ছবি।

সোমবার গ্রেসি ম্যানশনের সুশোভিত লনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোহরান মামদানি তার অনুভূতির কথা জানান।

তিনি বলেন, নিউইয়র্কবাসী তাদের জীবনের বিভিন্ন বাঁকে নতুন ঠিকানায় পাড়ি দেওয়ার যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, রমা ও আমি আজ তেমনই একটি মুহূর্তের অংশ হতে পেরে গর্বিত। নগরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এসে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার এই রীতিটি আমাদের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। এখন থেকে আমরা এই ঐতিহাসিক ইমারতকে আমাদের বাড়ি বলব।

১৯৪২ সাল থেকে গ্রেসি ম্যানশন নিউইয়র্কের মেয়রদের আনুষ্ঠানিক বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯ শতকের এই কাস্টার্ড রঙা স্থাপত্যটি নগরের আভিজাত্য ও ক্ষমতার প্রতীক। জোহরানের আগের মেয়রদের প্রায় সবাই অন্তত কিছু সময়ের জন্য এই প্রাসাদে অবস্থান করেছেন।

জোহরান মামদানির আগের এবং বর্তমান বাসস্থানের মধ্যে তুলনা করলে যে কেউ বিস্মিত হবেন। কুইন্সের সেই অ্যাপার্টমেন্টে মামদানি প্রতি মাসে ২ হাজার ৩০০ ডলার ভাড়া দিতেন। সেখানে আধুনিক কোনো সুযোগ সুবিধা, এমনকি কাপড় ধোয়ার বা শুকানোর যন্ত্রও ছিল না। পুরোনো সেই দালানের ভাঙা পাইপ দিয়ে প্রায়ই ঘরে পানি ঢুকে পড়ত, যা নিউইয়র্কের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ভাড়াটেদের এক অতি পরিচিত দুর্ভোগ। বিপরীতে বর্তমান বাসভবনটি ১১ হাজার বর্গফুট বা প্রায় ১ হাজার ২১ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ইস্ট রিভারের মোহনীয় দৃশ্য দেখা যায় এমন বারান্দা, ব্যক্তিগত পাচক এবং বিশাল সব বলরুম এখন তার নিত্যদিনের সঙ্গী।

জোহরান মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তার সরকার হবে সাধারণ মানুষের মতো। তিনি সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রার সঙ্গেই নিজেকে সম্পৃক্ত রাখবেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে মেয়রের রাজকীয় বাসভবনে ওঠার সিদ্ধান্তটি সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মামদানি স্পষ্ট করে বলেন, এই সিদ্ধান্তটি স্বেচ্ছায় বিলাসিতা গ্রহণের জন্য নয়, বরং পরিবারের নিরাপত্তার খাতিরে নিতে হয়েছে। মেয়রের পদের গুরুত্ব এবং আনুষঙ্গিক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই তাকে ব্যক্তিগত ভাড়া বাসা ছেড়ে সরকারি সুরক্ষিত ভবনে উঠতে হয়েছে। তবে তিনি একটি বিশেষ অঙ্গীকারও করেছেন যে, তিনি চান গ্রেসি ম্যানশন কেবল মেয়রের একান্ত বিলাসিতার জায়গা না হয়ে বরং সাধারণ নিউইয়র্কবাসীর জন্য উন্মুক্ত হোক, বিশেষ করে যারা কখনো এমন জায়গায় প্রবেশের সুযোগ পান না।

জোহরানের এই স্থানান্তরের সাথে সাথে তার চারপাশের সামাজিক পরিবেশেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। কুইন্সের যে এলাকায় তিনি থাকতেন, সেটি ছিল বহু সাংস্কৃতিক এবং শ্রমজীবীদের প্রাণকেন্দ্র। সেখানকার রাস্তায় হাঁটলে কানে আসত আরবি, স্প্যানিশসহ নানা ভাষার গুঞ্জন। বাতাসে ভেসে আসত শর্মা ও সামুদ্রিক খাবারের সুবাস। বিপরীতে তার বর্তমান ঠিকানা ‘আপার ইস্ট সাইড’ নিউইয়র্কের অন্যতম অভিজাত ও শ্বেতাঙ্গ প্রধান এলাকা। এখানকার প্রায় তিন চতুর্থাংশ অধিবাসী শ্বেতাঙ্গ। বিদায় বেলায় জোহরান একটি আবেগঘন বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, তিনি অ্যাস্টোরিয়ার সেই বৈচিত্র্যময় পরিবেশ, আড্ডার ছলে চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া এবং প্রাণবন্ত সেই পরিচিত গলিগুলোর অভাব বোধ করবেন।

মজার বিষয় হলো, জোহরান মামদানি তার পুরোনো এলাকা অ্যাস্টোরিয়াতে বিশাল জনসমর্থন ও ভোটে জয়লাভ করলেও, এই নতুন এলাকা আপার ইস্ট সাইড তার জন্য খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। গত নির্বাচনে এই এলাকায় তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো দুই অঙ্কের ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে রাজনৈতিকভাবে এই অভিজাত এলাকাটি তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

যদিও জোহরান কুইন্সের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, তবে ম্যানহাটান তার কাছে অপরিচিত নয়। তার শৈশবের একটি বড় সময় কেটেছে এই ম্যানহাটানেই। তার বাবা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হওয়ায় তারা সেন্ট্রাল পার্কের অপর পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তুকি পাওয়া একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। ফলে একভাবে গ্রেসি ম্যানশনে ফেরাটা তার শৈশবের পরিচিত জনপদে এক ভিন্ন পরিচয়ে ফিরে আসা।

জোহরান মামদানির গ্রেসি ম্যানশনে বসবাস করা নিয়ে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক থাকবেই। একদিকে নিরাপত্তা ও প্রটোকলের প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সাথে একাত্ম থাকার প্রতিশ্রুতি, এই দুয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে তার আগামী দিনের বড় পরীক্ষা। তিনি কি পারবেন প্রাসাদে থেকেও কুইন্সের সেই ভাঙা পাইপ আর সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা মনে রাখতে?

নাকি রাজকীয় আভিজাত্যের আড়ালে হারিয়ে যাবে সেই ‘সাধারণ মানুষের মেয়র’ ইশতেহার? উত্তরের জন্য নিউইয়র্কবাসীকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট