1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
এবার সরাসরি ক্যালিফোর্নিয়ায় হামলার পরিকল্পনা ইরানের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি খালেদা জিয়া, খামেনিসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব বিগত দেড় দশকে এমপিরা কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না-প্রধানমন্ত্রী আ.লীগের ফ্যাসিবাদী আমলে ইসির প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোটায় নেমেছিল-রাষ্ট্রপতি সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি-প্রধানমন্ত্রী পাইকগাছায় অবৈধ জাল জব্দ; পোনা নদীতে অবমুক্ত ভারতে পাচারের জন্য আনা ৫৫ লাখ টাকার স্বর্ণেরবারসহ পাচারকারী আটক সুন্দরবন থেকে অস্ত্রসহ করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক দাকোপে দলিত নারী ও কিশোরদের অধিকার সুরক্ষায় মতবিনিময় সভা

নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ, আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ও বিশ্বকাপের ভেন্যু বিতর্ক

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক:: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক এখন এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভূমিকা এবং তাদের তথাকথিত নিরপেক্ষতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

আইসিসিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভারতের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আইসিসির দ্বিমুখী আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।

ফারুকী উল্লেখ করেন, পাকিস্তান বা ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর ক্ষেত্রে আইসিসি যেভাবে নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেয়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড বজায় রাখা হচ্ছে না।

তিনি লিখেছেন, আইসিসি যদি সত্যিই নিজেকে সব সদস্যদেশের প্রতি ন্যায্য ও নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের উত্থাপিত নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতা প্রমাণের পুরো দায়ভার এখন আইসিসির কাঁধে।

ভারতের মাটিতে বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা ও সাম্প্রতিক সহিংসতা উপদেষ্টা ফারুকী তাঁর পোস্টে ভারতের অভ্যন্তরে চলমান বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব এবং সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনার উদাহরণ টেনেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি সন্দেহে মঞ্জুর লস্কর নামের এক মুসলিম ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার খবর দিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ অব ইন্ডিয়া।

এ ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে ভারতে পদ্ধতিগতভাবে বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খেলার মাঠেও। মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ আয়োজন নিয়ে শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরের সতর্কবাণী পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ফারুকী স্পষ্টভাবে বলেছেন, যখন আইসিসির নিজস্ব নিরাপত্তা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে যে, মোস্তাফিজ দলে থাকলে এবং বাংলাদেশের জার্সি পরলে ভারতে দলের জন্য মাঝারি থেকে উচ্চ পর্যায়ের ঝুঁকি রয়েছে, তখন এই উদ্বেগ অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

যেখান থেকে সংকটের শুরু এবারের সংকটের কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। গত ৩ জানুয়ারি ভারতের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হুমকির মুখে ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে মোস্তাফিজকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য হয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যদি একজন একক খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত ব্যর্থ হয়, তবে পুরো দলের এবং হাজার হাজার সমর্থক ও সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা তারা কীভাবে দেবে?

আইসিসি ২১ জানুয়ারির বোর্ড সভায় মোস্তাফিজের ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন ও সম্পর্কহীন বলে আখ্যা দিলেও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, মোস্তাফিজের ওপর আসা হুমকি ক্রিকেটেরই অংশ এবং এটি পুরো দলের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বিসিবি ও সরকারের অনড় অবস্থান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতোমধ্যে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছে। বিসিবির যুক্তিতে বলা হয়েছে, ভারতে বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর উগ্রপন্থী হামলার ঝুঁকি প্রবল।

খেলোয়াড়দের মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা বিকল্প ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত এবং ভৌগোলিক কারণে সেখানে বাংলাদেশের জন্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই।

তবে আইসিসি এখন পর্যন্ত ভারতের দাবিতে অনড় থেকে দাবি করছে যে ভারতে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। এর বিপরীতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিসিবি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ ছাড়া তারা ভারতে দল পাঠাতে ইচ্ছুক নয়।

আর্থিক ক্ষতি বনাম জীবনের নিরাপত্তা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করলে বিসিবির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট সংকেত দেওয়া হয়েছে যে, অর্থের চেয়ে খেলোয়াড়দের জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

আসিফ নজরুল গতকাল ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, ভারত সরকার আমাদের আশ্বস্ত করার ন্যূনতম চেষ্টাও করেনি। আইসিসিও এক্ষেত্রে সুবিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আইসিসির পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসি এখন একটি বড় অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল ও উদীয়মান ক্রিকেট পরাশক্তি বাংলাদেশ, অন্যদিকে ক্রিকেটের বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রক ভারত। যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়, তবে টুর্নামেন্টের জৌলুস যেমন কমবে, তেমনি আইসিসির গ্রহণযোগ্যতাও বিশ্বজুড়ে প্রশ্নের মুখে পড়বে।

ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করাই এখন একমাত্র যৌক্তিক সমাধান হিসেবে দেখছে ঢাকা। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি তাদের বিগ থ্রি বা তিন মোড়ল নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না।

উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি এখন আর কেবল একটি খেলার বিষয় নয়, বরং এটি আত্মমর্যাদা এবং জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট