
এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা (খুলনা):: বসন্তের আগমনে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লিচু গাছে এখন মুকুলের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় ফুটে ওঠা লিচুর সোনালি মুকুল আর তার মিষ্টি সুবাসে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। মুকুলের ঘ্রাণে আকৃষ্ট হয়ে বাগানজুড়ে ভনভন করছে মৌমাছি, যা প্রকৃতিকে দিয়েছে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য।
উপজেলার বিভিন্ন সড়কপথ ও বাগানে চোখে পড়ছে লিচু গাছের ডালে ডালে মুকুলের বাহার। বসন্তের মৃদু হাওয়ায় দুলছে সেই মুকুল। গাছে গাছে এত মুকুল দেখে বাগান মালিক ও চাষিদের মাঝে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আনন্দ। অনেকেই মনে করছেন, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে লিচুর বাম্পার ফলন হতে পারে।
বাগান মালিকরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচু গাছে ভালো মুকুল এসেছে। এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক কোনো প্রতিকূলতা মুকুলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। তাই আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলায় প্রায় ২৩ একর জমিতে রসালো ও সুস্বাদু লিচুর চাষ হয়। এ অঞ্চলে বড় আকারের লিচু বাগানের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও পারিবারিক ও ছোট আকারের বাগানেই মূলত লিচুর চাষ বেশি দেখা যায়। এখানে প্রধানত মোজাফ্ফর বা দেশি এবং বোম্বাই বা চায়না-৩ জাতের লিচু বেশি চাষ করা হয়। এছাড়াও স্বল্প পরিসরে কদমি, কাঁঠালি, বেদেনা, চায়না-১ ও চায়না-২ জাতের লিচুর চাষ রয়েছে।
লিচু চাষিরা জানান, সাধারণত মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে লিচু গাছে মুকুল আসে। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গাছই মুকুলে ভরে গেছে। মুকুল ঝরে পড়া রোধে চাষিরা গাছে নিয়মিত পানি দেওয়া, প্রয়োজনীয় কীটনাশক স্প্রে করা এবং বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামূল হোসেন বলেন, এবার পাইকগাছা উপজেলায় লিচুর মুকুল ভালো হয়েছে। অধিকাংশ গাছে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। মুকুল ঝরা রোধে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply