রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
এমবাপ্পের সামনে এখন শুধুই মেসি বাংলাদেশ ও চীন অর্থনৈতিক করিডোর বিবেচনায় রয়েছে-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া-চীন সফরের সাফল্য দেশের মানুষের অর্জন-সংসদে প্রধানমন্ত্রী মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্ট বোঝাই দুটি বোটসহ ২১ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী পাইকগাছায় মৎস্যচাষিদের মাঝে মাছ চাষের উপকরণ ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রজ্ঞা অর্জন করতে হবে -পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় পাইকগাছায় চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধে দুলাভাই বাহিনীর প্রধানসহ আটক ২ নিহত ১ জনগণের ভোগান্তি কমাতে মোংলা নদীতে ২৪ ঘন্টা ফেরি চলাচল শুরু বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে যেসব দলের লাইন-আপ চূড়ান্ত

জলাবদ্ধতায় কুড়ো ভূষির মূল্য বৃদ্ধিতে ডুমুরিয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

অরুণ দেবনাথ,ডুমুরিয়া( খুলনা )প্রতিনিধি:: খড় সংকট, কুড়ো ভূষির মূল্য বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতায় ঘাসের অমিল হওয়ায় খুলনার ডুমুরিয়ায় গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে খাদ্য সংকটে গাভী বিক্রি করে দিয়েছে খামারিরা। গবাদিপশু বাঁচিয়ে রাখতে প্রান্তিক খামারিরা কচুরিপানা সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর ভয়াবহ বন্যায় বিলে ঘাস না থাকায় গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দেয়। কিছু কিছু এলাকায় খড় পাওয়া গেলেও প্রান্তিক গবাদিপশু পালনকারীদের হাতের নাগালে নেই দাম। বাজারে বিক্রি করা গো-খাদ্যের দামও আকাশচুম্বী। যার ফলে প্রান্তিক গবাদিপশু পালনকারিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। গবাদিপশু বাঁচিয়ে রাখতে তারা বাড়ির পাশের খাল, বিল ডোবায় জন্মানো কচুরিপানা তুলছেন। গো-খাদ্য হিসেবে কচুরিপানাই এখন তাদের শেষ ভরসা। কেউ কেউ নিজেদের বাড়ির কাছাকাছি কচুরিপানা না পেয়ে রিকশা-ভ্যান ভাড়া করে কেউবা পায়ে হেঁটে দূর-দূরন্ত থেকে সংগ্রহ করছেন কচুরিপানা।

উপজেলার দেড়লি গ্রামের তপন কুমার ঘোষ বলেন; এবার বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ায় মানুষের খাদ্যেরই অভাব দেখা দিয়েছে। খালে বিলে এই কচুরিপানা না থাকলে গরুগুলো বাঁচিয়ে রাখাই কষ্ট হয়ে যেত। বিচেলী ব্যবসায়ী বেজেরডাঙ্গা এলাকার ইউনুস গাজী ও ফুলতলা এলাকার বাপ্পী জানায়; চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে ট্রাকে করে আমাদের এলাকায় আসে সেখান থেকে কিনে এনে গ্রামাঞ্চলে বিক্রি করি। প্রতি আঁটি খুচরা ৭-৮ টাকা মূল্যে বিক্রি করি। তবে কাউন হিসেবে কেউ নিলে একটু কমে বিক্রি হয়। এখন মানুষের গরু নেই বললেই চলে। খাবারের অভাবে মালিকেরা ৭৫ ভাগ গরু বিক্রি করে দিয়েছে। সাবেক ইউপি মেম্বার আরতি মহাজন বলেন; আমার একটা গাভীর পিছনে দৈনিক ৫’শ টাকা খরচ হয়। ৩৫ কেজি ওজনের একবস্তা ভূষির দাম ১৫”শ টাকা। কিভাবে গাভী পালবো এলাকার ৭৫ ভাগ গাভী খাদ্য সংকটে বিক্রি করে দিয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল কবীর বলেন, বর্তমান সময়ে গো-খাদ্য সংকটের প্রধান কারণ হচ্ছে সামপ্রতিক ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা। বন্যায় এ উপজেলার ঘাস জন্মাতে পারেনি। আউশ ধান না হওয়ায় গাভী পালনকারীরা খড়(কুটো) সংগ্রহ করতে পারেননি। বরাদ্ধ না থাকায় সরকারীভাবে কোন খামারিকে গোখাদ্যও দেয়া সম্ভব হয়নি। বন্যার কারণে ধানের পাশাপাশি গো-খাদ্য ঘাস পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। এতে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলার বিভিন্ন খামারিরা খাদ্যাভাবে গাভী বিক্রি করে দিয়েছে।

খুলনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত কৃষি উপপরিচালক মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে এবার বিল ও ঘেরের পাড়ে ঘাস জন্মাতে পারেনি। আবার যা জন্মেছিল তা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভূষি খড় ও বিচেলির দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকেপড়েছে গো- খামারিরা। গো- খাদ্যের তীব্র সংকটের কারণে অনেকেই গাভী বিক্রি করে দিয়েছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে চাষকৃত ঘাসের জমি আক্রান্ত হওয়ার ফলে গো-খাদ্য হিসেবে কচুরিপানাও ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে কিছুটা হলেও গো-খাদ্যের চাহিদা মিটছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews