
বেনাপোল প্রতিনিধি:: বেনাপোলে নবজাগরন সঞ্চয় ঋনদান সমবায় সমিতির ২৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছে উক্ত সমিতির ম্যানেজার কামাল হোসেন (৩৫)। অভিযুক্ত সমিতির ম্যানেজার কামাল হোসেন যশোরের কেশবপুর থানার খোপদহি গ্রামের ভান্ডার খোলা এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে।এ ঘটনায় সমিতির পক্ষ থেকে তার নামে গত ১ জুন যশোর আদালতে ৪০৮/৪২০/৫০৬ ধারায় একটি মামলা হয়েছে।
সমিতির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকজন উদ্যোক্তা মিলে বেনাপোল কাস্টমসের সামনে গাজিপুর এলাকায় নবজাগরন সঞ্চয় ঋনদান সমবায় সমিতি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। যা প্রায় একযুগ ধরে চলমান রয়েছে।
এক যুগেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত এই সমিতি ঋণের পাশাপাশি সদস্যদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ ও মুনাফা দিয়ে থাকে। এক লাখ টাকা আমানতের বিপরীতে প্রতি মাসে লভ্যাংশ দেওয়া হতো ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।
বর্তমানে নবজাগরন সঞ্চয় ঋনদান সমবায় সমিতির সদস্য প্রায় দুই শতাধিক। সদস্যদের জমানো টাকার পরিমাণ ছিল কয়েক লক্ষ টাকা। সম্প্রতি অতি লোভী সমিতির ম্যানেজার কামাল হোসেন সমিতির প্রায় ২৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়ে নিজের এলাকা যশোরের কেশপুরে অবস্থান করছে। সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বার বার কার্যালয়ে এসে পুনরায় সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার জন বলা হলেও সে আজ আসব কাল আসব বলে দীর্ঘ পাঁচমাস টালবাহানা করছে। সমিতির সমস্ত হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হলে ও কর্নপাত করছেন না তিনি।
এদিকে বিভিন্নভাবে তালবাহানা করায় সমিতির সদস্য এবং পরিচালনা কমিটির লোকজন ও সদস্যদের কটু কথার সম্মুখীন হতে হচ্ছে গ্রাহকদের কাছ থেকে। গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত চাচ্ছে। কিন্তু সমস্ত হিসাব নিকাশ ও টাকা পয়সা ম্যানেজার কামাল হোসেনের কাছে থাকায় সমিতির পরিচালনা কমিটি কিছু করতে পারছে না।
টাকা পয়সা ফেরত এবং কাজে যোগদানের জন্য সমিতির ম্যানেজার কামালের নিজ এলাকায় কেশবপুরে তার বাড়িতে সমিতির লোকজন তার বাড়িতে গিয়ে অনেকবার বললেও সে এসবের কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। এখন তিনি বলছেন ক্ষমতা থাকলে আমার কিছু করে নেন। আমি কোন টাকা পয়সা ফেরত দিতে পারবো না।
ম্যানেজার কামাল হোসেন সমিতির পরিচালনা কমিটির সদস্যদের তোয়াক্কা না করায় ‘নবজাগরন সঞ্চয় ঋনদান সমবায় সমিতির ক্যাশিয়ার সুমন হোসেন বাদী হয়ে যশোর আদালতে ৪০৮/৪২০/৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত কামাল হোসেনের কাছে মুঠোফোনে এব্যাপারে জানতে তিনি বলেন,নবজাগরন সঞ্চয় ঋনদান সমবায় সমিতির সমস্ত হিসাব নিকাশ পরিচালনা কমিটির কাছে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। চাকরী ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, ঋন দেওয়া গ্রাহকরা ঠিকমতো কিস্তি না দেওয়ায় সঞ্চায়ী ব্যক্তিদের সময় মতো টাকা দিতে না পারায় গ্রাহকদের সাথে মতবিরোধের কারনে চাকরী ছেড়ে দিয়েছি। সমিতির কোন হিসাব বা কোন টাকা তারা আমার কাছে পাবেনা।
নবজাগরন সঞ্চয় ঋনদান সমবায় সমিতির’ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহীন বলেন, আমাদের সমিতির ম্যানেজার প্রায় একযুগ ধরে ম্যানেজার পোষ্টে চাকরী করে আসছিল। কমিটির সদস্যরা প্রতিমাসের বেতন তাকে প্রতিমাসে দিতো। তার কোন কষ্ট হোক এটা আমরা কেউ চাইতাম না। কিন্তু ম্যানেজার কামাল আমাদের সাথে প্রতারণা করে সমিতির প্রায় ২৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে নিজ এলাকায় অবস্থান করছে। কাজে যোগদান বা টাকা ফেরতের ব্যাপারে বললে কোন গুরুত্ব না দেওয়ায় গত ১ জুন যশোর আদালতে অর্থ আত্মসাতের ৪০৮/৪২০/৫০৬ ধারায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে।
Leave a Reply