1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
তুরস্কে স্কুলে বন্দুক হামলায় নিহত ৯ বিচ্ছিন্ন লাখো মানুষ,দক্ষিণ লেবাননের শেষ সেতুটিও ধ্বংস করল রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়-প্রধানমন্ত্রী ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে বিএনপি সরকার,রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংস্কার বিমুখতায় সংকটের পদধ্বনি দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হাতে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর অভিযানে টেকনাফে ৭২ হাজার পিস ইয়াবা ও দুই মাদককারবারি আটক মায়ানমারে পাচারকালে ৬৬০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড পাইকগাছায় নতুন মৎস্য আড়ৎ উদ্বোধন; কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত ঘোড়াঘাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু। পাইকগাছায় নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ

বিচ্ছিন্ন লাখো মানুষ,দক্ষিণ লেবাননের শেষ সেতুটিও ধ্বংস করল

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: লেবাননের ভূখণ্ডে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা দেশটিকে মানবিক ও সামরিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে লেবাননের কাসমিয়া এলাকায় এক শক্তিশালী বিমান হামলার মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননের সাথে বৈরুতসহ দেশের বাকি অংশের সর্বশেষ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। লেবাননের একজন উর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই শেষ সেতুটি ধ্বংস হওয়ার ফলে দক্ষিণ লেবানন এখন কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, টায়ার এলাকার সাথে সিডন শহরের সংযোগকারী কাসমিয়া সেতুর ওপর পর পর দুটি বিধ্বংসী বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। প্রথম হামলায় সেতুর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্বিতীয় সফল আঘাতের পর পুরো অবকাঠামোটি ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলে কাজ করা জরুরি পরিষেবা কর্মী ও সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, সেতুটি এখন আর কোনো ধরণের যানবাহন চলাচলের উপযোগী নেই।

এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে আসা-যাওয়ার অন্যান্য ছোট-বড় সব সেতু ধ্বংস করে দিয়েছিল। কাসমিয়া সেতুটিই ছিল শেষ ভরসা, যার মাধ্যমে ত্রাণবাহী যানবাহন ও যুদ্ধকবলিত মানুষ যাতায়াত করছিল।

ইসরায়েল এই ধরণের হামলার সপক্ষে বারবার তাদের সামরিক কৌশলের কথা উল্লেখ করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি, লেবাননের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ব্যবহার করে হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে এবং দক্ষিণ লেবাননের রণাঙ্গনে রসদ সরবরাহ করছে। সেতুগুলো ধ্বংস করার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর যাতায়াত ব্যবস্থা পঙ্গু করে দেওয়া এবং তাদের গতিবিধি সীমিত করাই ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য।

তবে লেবানন সরকারের অভিযোগ, এটি কেবল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই নয়, বরং সাধারণ নাগরিকদের ওপর সম্মিলিত শাস্তি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু ধ্বংসের ফলে বেসামরিক নাগরিকদের উদ্ধার কাজ এবং খাদ্য-ওষুধ সরবরাহ এখন সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কাসমিয়া সেতুটি ধ্বংস হওয়ার ফলে দক্ষিণ লেবাননের শহর ও গ্রামগুলোতে আটকা পড়া কয়েক লাখ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

যারা এখনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আটকা পড়ে আছেন, তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কোনো পথ খোলা নেই। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সিডন হয়ে যে ত্রাণ পাঠাত, তা এখন আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বৈরুত বা সিডনের বড় হাসপাতালগুলোতে আনা এখন দুরুহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজকের এই ধ্বংসাত্মক হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ইসরায়েলি ও লেবাননী নেতাদের মধ্যে আজ সরাসরি সংলাপ হতে যাচ্ছে। একদিকে শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার গুঞ্জন, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে অবকাঠামো ধ্বংস করে একটি অঞ্চলকে অবরুদ্ধ করে রাখা ইসরায়েলের এই দ্বিমুখী আচরণ আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার ঠিক আগে এই ধরণের হামলা চালিয়ে ইসরায়েল টেবিলের দরকষাকষিতে লেবানন সরকারকে কোণঠাসা করতে চায়। তারা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করছে যাতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট না থাকে।

দক্ষিণ লেবানন এখন এক ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপের’ মতো হয়ে পড়েছে। কাসমিয়া সেতুর ধ্বংসস্তূপ কেবল কংক্রিটের পতন নয়, বরং এটি লেবাননের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভঙ্গুরতারও প্রতীক। যখন আলোচনার টেবিলে শান্তির কথা বলা হচ্ছে, তখন কাসমিয়া নদীর ওপর ধসে পড়া এই সেতুটি এক দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন তাকিয়ে আছে আজ বিকেলের সেই আলোচিত ফোনালাপের দিকে—সেখান থেকে কি সেতুটি পুনর্নির্মাণের স্বপ্ন আসবে, নাকি যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়বে?

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট