রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
এমবাপ্পের সামনে এখন শুধুই মেসি বাংলাদেশ ও চীন অর্থনৈতিক করিডোর বিবেচনায় রয়েছে-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া-চীন সফরের সাফল্য দেশের মানুষের অর্জন-সংসদে প্রধানমন্ত্রী মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্ট বোঝাই দুটি বোটসহ ২১ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী পাইকগাছায় মৎস্যচাষিদের মাঝে মাছ চাষের উপকরণ ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রজ্ঞা অর্জন করতে হবে -পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় পাইকগাছায় চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধে দুলাভাই বাহিনীর প্রধানসহ আটক ২ নিহত ১ জনগণের ভোগান্তি কমাতে মোংলা নদীতে ২৪ ঘন্টা ফেরি চলাচল শুরু বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে যেসব দলের লাইন-আপ চূড়ান্ত

মালয়েশিয়া-চীন সফরের সাফল্য দেশের মানুষের অর্জন-সংসদে প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দেশের এবং দেশের মানুষের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই ছয় দিনের প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক সফরকে কেন্দ্র করে আজ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেই ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

আজকের সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। অধিবেশনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে এই সফরকে একটি ‘যুগান্তকারী ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

দেশের স্বার্থই সবার আগে, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’

সংসদে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সরকারের মূল দর্শন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, মূল বিষয়টি হলো, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের ওপর তাদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা যে স্লোগানটি ব্যবহার করি, তা হলো- ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (আগে বাংলাদেশ)।

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান এবং দেশের মানুষের অধিকার সমুন্নত রাখাই ছিল এই সফরের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমি আমার অবস্থান থেকে যা করার চেষ্টা করেছি, তা হলো আমার দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থের পক্ষে কথা বলা এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করা। এখানে আমাদের কারও ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ বা বিষয় নেই। যদি কোনো অর্জন হয়ে থাকে, তবে তা বাংলাদেশের অর্জন, এ দেশের মানুষের অর্জন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের স্বার্থ রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সফরটিকে সফল করতে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

জাতীয় সংসদে বিরল ঐকমত্য ও ধন্যবাদ প্রস্তাব

আজকের সংসদীয় কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর এই সফল ও ফলপ্রসূ সফরকে সাধুবাদ জানিয়ে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটির ওপর সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘ ও বিশদ আলোচনা (থ্রেডবেয়ার ডিসকাশন) অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা এই দুই দেশ সফরের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন,

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মালয়েশিয়া ও চীনের মতো বড় অর্থনৈতিক শক্তির সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে এই সফর দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় এই সফর অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

সংসদে জাতীয় স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দলের এমন সহনশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ অবস্থানকে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে সংসদ সদস্য, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমি সংসদের সকল সদস্য, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি আমাকে দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করেছেন।

রাজনীতিতে এই ধরনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জাতীয় ইস্যুতে একাত্মতা প্রকাশ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্পিকারের মূল্যায়ন, ‘পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা’

ধন্যবাদ প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দেওয়ার আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম, সংসদ সদস্যদের আলোচনার ওপর নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজকের এই আলোচনা ও বিতর্ক দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে একটি বিরল জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

স্পিকার বলেন, সংসদের আলোচনা থেকে এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। সরকারি ও বিরোধী- উভয় বেঞ্চের সংসদ সদস্যরা এই বিষয়ে অত্যন্ত চিন্তাশীল এবং মূল্যবান মতামত প্রদান করেছেন, যা আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় মাইলফলক।

সফরের প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

গত ২১ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চলমান এই ছয় দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরবর্তীতে চীন সফর করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফরে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের বাজার আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে রেখে তৈরি করা এই পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।

সংসদে আজ যেভাবে দলমত নির্বিশেষে এই সফরকে স্বাগত জানানো হয়েছে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন যাত্রায় এক নতুন বার্তা বহন করে। দেশের অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নে এই সফরের সুফল খুব দ্রুতই দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews