
স্পোর্টস ডেস্ক:: বিশ্বকাপের শিরোপা ছুঁয়ে দেখার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। ফাইনাল শেষে লিওনেল মেসি, তার সতীর্থ এবং কোটি সমর্থকের চোখে ছিল শুধুই হতাশার অশ্রু। নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন হাতছাড়া করে আলবিসেলেস্তেরা।
রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের গতিময় ও তিকিতাকা ফুটবলের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে স্পেনের আধিপত্য থাকলেও আর্জেন্টিনা নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে রাখতে সক্ষম হয়। তবে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একটি বড় ভুল এবং রক্ষণভাগের অমনোযোগিতাই শেষ পর্যন্ত তাদের সর্বনাশ ডেকে আনে।
খেলার মোড় ঘুরে যায় যখন মিডফিল্ডার এনসো ফের্নান্দেস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। তার বিদায়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। একজন কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হওয়ায় দলটি আরও রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পেন ক্রমাগত চাপ বাড়াতে থাকে।
জয়সূচক গোলের মুহূর্তে আর্জেন্টিনার ডিফেন্সের অবস্থানগত ভুল ছিল স্পষ্ট। পেদ্রো পোরোর পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে ক্রস তোলেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। সেই বল নিকো উইলিয়ামস হেড করে বক্সের ভেতরে নামিয়ে দিলে আর্জেন্টিনার দুই সেন্টার ব্যাক বল ক্লিয়ার করার বদলে গোললাইন রক্ষায় ছয় গজ বক্সের ভেতরে নেমে যান। এতে বক্সের মাঝখানে স্পেনের আক্রমণভাগের জন্য পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়ে যায়।
নিকো উইলিয়ামসের হেড পাস ঠিক সেই ফাঁকা জায়গাতেই পৌঁছে যায়, যেখানে সম্পূর্ণ আনমার্কড অবস্থায় ছিলেন বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। আর্জেন্টিনার কোনো ডিফেন্ডার কিংবা মিডফিল্ডারই তার দৌড় অনুসরণ করতে পারেননি। সুযোগ পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তোরেস। সেই মুহূর্তে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের পক্ষে গোলটি ঠেকানোর কোনো সুযোগই ছিল না।
গোল হজমের পর অতিরিক্ত সময়ের বাকি অংশে একজন কম নিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক ফাইনালে স্পেনের কৌশলী ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের কাছেই শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।