
নিজস্ব প্রতিনিধি:: গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপী বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুক্রবার খুলনা সেন্ট যোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি বলেন, বই মানুষকে বদলে দেয় এবং চিন্তা-চেতনার পরিধিবড় করে। বই পড়ার মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করতে হবে। বইপড়াকে নেশা ও অভ্যাসে পরিণত করা প্রয়োজন। শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সৃজনশীল সাহিত্য ও ভালো বই পড়ার অভ্যাস তোমাদের তৈরি করতে হবে। ভালো বই কেবল গল্পই বলে না, বরং পাঠকের মনের কথাও শোনে। বইপড়াকে সহজ করতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছে।
তাঁরা আরও বলেন, নিজেদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করার জন্য শিক্ষার্থীদের বেশি করে বই পড়তে হবে। সাহিত্যবিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক বইও নিয়মিত পড়ার পরামর্শ দেন তাঁরা। আলোকিত প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে বইপড়ার পাশাপাশি অভিভাবক ও শিশু-কিশোরদের নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক বিষয়ে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন অতিথিরা।
বইপড়া উৎসবের পুরস্কার বিতরণের বিভিন্ন পর্বে অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প পরিচালক মু: বিল্লাল হোসেন খান, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী নকী, খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) ইরুফা সুলতানা, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞান সংগঠক অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের (ভারপ্রাপ্ত) উপপরিচালক মো: কামরুজ্জামান, জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান, সেন্ট যোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফ্রেড রণজিৎ মন্ডল, সাবেক সচিব এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো: আসাদুজ্জামান ও গ্রামীণফোন লিমিটেড খুলনার রিজিওনাল হেড ছানোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে চারটি পর্বে মহানগরের ৩০টি স্কুলের দুই হাজার দুইশত ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার প্রদান এবং ১৬টি স্কুলের পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাতে প্রদান করা হয়। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে খুলনা মহানগরের ৪৬টি স্কুলের মোট তিন হাজার দুইশত ৬৯ জন শিক্ষার্থী বইপড়া কর্মসূচিতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বিগত ৪৮ বছর ধরে দেশজুড়ে সংস্কৃতিমনস্ক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রম’ পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে সারাদেশের প্রায় এক হাজার পাঁচশতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই বইপড়া কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।